
শেষ আপডেট: 11 January 2024 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: আবাস যোজনায় নাম উঠেছিল। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে বাড়ি নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এক বছর ধরে বাড়ি অর্ধনির্মিত হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই পরিবার নিয়ে রাস্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে মেদিনীপুর শহরের আড়াই হাজার মানুষকে।
কেউ পরিত্যক্ত স্কুল ঘরে, কেউ ক্লাব ঘরে, কেউ আবার ত্রিপল খাটিয়ে বাড়ির পাশেই সপরিবারে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০২১ সালে মেদিনীপুর পুরসভা ভোটের আগেই তাঁদের নাম উঠেছিল আবাস যোজনার তালিকায়। দ্রুত প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকে যায়। বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হতে কিছুদিনের জন্য তাঁরা অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁদের বাড়ি নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
অথৈ জলে পড়া পরিবারগুলির অভিযোগ, এখনও তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকেনি। তাই বাড়ির ভিত হয়ে গেলেও দেওয়াল ও ছাদের ব্যবস্থা হয়নি।
এই অবস্থায় এখন বক্সিবাজারের একটি পরিত্যক্ত স্কুলবাড়িতে দিন কাটাতে হচ্ছে মমতা সরকার ও পূর্ণিমা সরকারের পরিবারকে। দুটি ছোট্ট ঘরেই তাদের বাস। ওই একটি ঘরের মধ্যেই রান্না ও শোয়ার ব্যবস্থা। স্কুলের ভাঙাচোরা বাথরুম ব্যবহার করেন দুই পরিবার।
মমতা সরকার জানিয়েছেন, “এক বছর আগে তাঁদের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। তখন এলাকার কাউন্সিলরকে অনুরোধ করে এই পরিত্যক্ত স্কুলবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম।“ পূর্ণিমা সরকারও একই কথা বলেছেন। পূর্ণিমার দাবি, তাঁদের থেকেও আরও কষ্টে অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন বাড়ির আশায়।
স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বনাথ পাণ্ডব এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আর মেদিনীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ আঙুল তুলছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দেওয়াতেই নাকি এমন সমস্যায় পড়েছেন এতগুলো পরিবার। যদিও পুরপ্রধান সৌমেন খান যতটা সম্ভব এই পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।