দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে এক মন্দিরে চুরি হয়েছিল দু'দিন আগে। সেজন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন দুই সাধু। তাঁরা থাকতেন মন্দিরেই। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তলোয়ার নিয়ে দুই সাধুকে আক্রমণ করে। তাঁরা ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁদের একজনের বয়স ছিল ৫৫, অপরজনের ৩৫। আক্রমণকারী গ্রেফতার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
পুলিশের বক্তব্য, অপরাধী দুই সাধুর ওপরে হামলার আগে মাদক সেবন করেছিল। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তার ওপরে মাদকের প্রভাব আছে। নেশা কেটে গেলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, এই খুনের পিছনে সাম্প্রদায়িক কারণ নেই।
কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রের পালঘরে দুই সাধু ও তাঁদের গাড়ির চালক গণধোলাইয়ে নিহত হন। মানুষ তাদের ছেলেধরা ভেবেছিল। গ্রামে রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিনজন কিডনি চুরি করতে এসেছে। খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বিদ্যুৎ গতিতে। লকডাউনের তোয়াক্কা না করেই জড়ো হয়েছিল কয়েকশো লোক। তারপর চলে মার।
ওই ঘটনায় ১১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারমধ্যে ১০১ জনকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি গ্রামবাসীরা। পুলিশের দুটো গাড়ি সমেত মোট তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর করে তারা। শুক্রবারের এই ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। জানা গিয়েছে, মৃত তিন ব্যক্তির নাম সুশীলগিরি মহারাজ, নীলেশ তেলগড়ে এবং চিকনে মহারাজ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নাসিক থেকে গাড়ি নিয়ে মুম্বইয়ের দিকে আসছিলেন এই তিন ব্যক্তি। আচমকাই তাঁদের উপর হামলা করে গ্রামবাসীরা। গাড়ি লক্ষ্য করে চলে বেপরোয়া পাথরবৃষ্টি উদ্ধার করতে এসে গ্রামবাসীদের হাতে আক্রন্ত হন পুলিশকর্মীরাও। পাথর-লাঠি-বাঁশ সব নিয়ে শুরু হয়ে আক্রমণ। গুরুতর জখম হয়েছেন চার পুলিশকর্মীও।
জানা গিয়েছে, ওই গাড়ির চালক কোনওভাবে পুলিশকে খবর দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গ্রামবাসীদের বেধড়ক মারে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ২০০ জন লোক মিলে ঘিরে ধরেছিল এই তিনজনকে। তারপরেই কিডনি চোর সন্দেহে শুরু হয় মারধর।