
শেষ আপডেট: 26 October 2023 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ‘দুর্গারত্ন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দিল বাকি দুটি ক্লাবও। রাজভবনের তরফে পুরস্কার ঘোষণা করার পরই বুধবার তা প্রত্যাখ্যান করেছিল কল্যাণী লুমিনাস এবং টালা প্রত্যয়। এবার তাঁদের দেখানো পথে হেঁটে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজভবনের পুরস্কার না নেওয়ার কথা জানিয়ে দিল বরানগরের নেতাজি কলোনি লো ল্যান্ড এবং বন্ধুদল স্পোর্টিং ক্লাব।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দুটি ক্লাবের পক্ষ থেকে রাজভবনের পুরস্কার গ্রহণ না করার কথা জানান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়। দুটি ক্লাবের কর্মকর্তাদের পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তাপস রায় বলেন, “তাঁর পছন্দের তালিকায় আমার বিধানসভা কেন্দ্রের দুটি পুজো বেছে নেওয়ার জন্য রাজ্যপালকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে আমরা এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারব না। কারণ, বাংলার উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের পুজোর নাড়ির টান রয়েছে। কেন্দ্রের বঞ্চনার কারণে রাজ্যের ২১-২২ লক্ষ মানুষ কাজ করে টাকা পাচ্ছেন না। তাই আমরা দুর্গারত্ন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি।”
রাজ্য সরকারের মতই রাজভবনও ঘোষণা করেছিল সেরা পুজোকে পুরস্কৃত করা হবে। সেই মোতাবেক কলকাতা ও জেলা সহ চারটি পুজো কমিটিকে ‘দুর্গারত্ন’ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে বুধবার ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
রাজভবন জানিয়েছিল, নির্বাচিত ওই চারটি পুজো হল, টালা প্রত্যয়, নেতাজি কলোনি লো-ল্যান্ড, বরানগর বন্ধুদল স্পোর্টিংয়ের পুজো এবং কল্যাণী লুমিনাস ক্লাবের পুজো। চারটি পুজো কমিটিকে মোট ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে রাজভবন।
কিন্তু বিকেলেই কল্যাণী লুমিনাস ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, তাঁরা রাজভবনের দুর্গারত্ন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের একশ দিনের কাজের টাকা বকেয়া রয়েছে। গরিব মজুররা কাজ করেও টাকা পাননি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল যদি তাঁদের মজুরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, সেটাই পুরস্কার হিসাবে ধরে নেব।
এরপর টালা প্রত্যয়ের তরফেও রাজ্যপালের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করা হয়। বাকি দুটি পুজো কমিটিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে পুরস্কার প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে দিল। রাজভবনের তরফে অবশ্য এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।