দ্য ওয়াল ব্যুরো: আস্ত একটা ব্রিজ ভেঙে না পড়লে বছর ছাব্বিশের গণেশ প্রসাদ হয়তো জানতেই পারতেন না তাঁর ব্রেন টিউমার হয়েছে! নিশ্চিত মৃত্যুর থেকে বাঁচলেও তাঁর জন্য ওঁৎ পেতেছিল অন্য বিপদ।
চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে একটা ব্রিজকে ভেঙে পড়তে দেখেছিলেন গণেশ। মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের দিনে তিনিও ছিলেন আহতদের তালিকায়। চারদিকে স্বজন হারানোর আর্তনাদ, হাহাকার আর ধুলোর আস্তরণ সরিয়ে যখন আপনজনদের খোঁজ চলছে, সেই সময় গুরুতর জখম অবস্থায় গণেশকেও উদ্ধার করে পাঠানো হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরেও জ্ঞান না হওয়ায় তাঁকে বিশেষ নজরদারিতেই রাখেন চিকিৎসকরা।
তার পর কেটে যায় আরও এক সপ্তাহ। কিন্তু, জ্ঞান ফেরেনা গণেশের। শেষে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে কোনও মামুলি চোট নয়, বরং যুবকের মাথার ভিতর বাসা বেঁধেছে টিউমার। সেটা ক্রমশ আধিপত্য বিস্তার করছে গোটা মস্তিষ্কেই। চোট সারাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে ডাক্তারদের। এতদিন এই টিউমার নিয়েই দিব্যি দিন কাটাচ্ছিলেন যুবক। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কখন নিঃশব্দে তাঁর মস্তিষ্কে জবরদখল করে ফেলেছে সেটি।
যে আইটিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল গণেশকে তার দায়িত্বে থাকা ডঃ রজত চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরাও প্রথমে বুঝতে পারেননি যুবকের ব্রেন টিউমার রয়েছে। কারণ শরীরের যে বিশেষ পরিবর্তন বা উপসর্গগুলি দেখে মস্তিষ্কে টিউমার তৈরি হয়েছে কিনা তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়, তার একটিও ছিল না গণেশের শরীরে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ চোট ধরে নিয়েই চিকিৎসা শুরু করেছিলেন ডাক্তারেরা। ভুল ভাঙে এক সপ্তাহ পরে। যখন টানা নজরদারিতে থাকার পরেও গণেশের জ্ঞান ফেরেনি। রজতবাবু বলেছেন, এমআরআই, এমআর স্পেকট্রোস্কোপি এবং সিটি স্ক্যান করার পরেই রোগের আসল কারণ বুঝতে পারেন তাঁরা।
ছেলের ব্রেন টিউমার হয়েছে জেনে বারে বারেই জ্ঞান হারাচ্ছেন গণেশের মা মীনাদেবী। তাঁর কথায়, “কখনও বুঝতে পারিনি এমন একটা রোগ বাঁধিয়ে বসে আছে আমার ছেলে। মাঝে মাঝে মাথা যন্ত্রণার কথা বলত। সেতু ভেঙে আহত হওয়ার পরই জানতে পারলাম।”
মাঝেরহাটের সেতু ভেঙে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। মাথায় চোট লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বেহালার শীলপাড়ার বাসিন্দা সৌমেন বাগের। পরদিন কংক্রিটের চাঙড় সরিয়ে থেঁতলানো দেহ উদ্ধার হয় মেট্রোর ঠিকা কর্মী গৌতম মণ্ডল ও প্রণব দে’র। কালীঘাটের বাসিন্দা গণেশও সে দিন ব্রিজ পার হচ্ছিলেন। তবে তাঁর চোট ছিল সামান্যই।
এই টিউমার প্রাণঘাতী কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা। টাইমস অব ইন্ডিয়া সূত্রে খবর, বায়োপসি করা হয়েছে। তার রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট কি না। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, টিউমারটি ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছে মস্তিষ্কে। আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।