ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জুলাই। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের সাহড়দা ও সবং থানার শীতলদা এলাকার ১৬ জন যুবক কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন গুজরাতের সুরাটে। সেদিন রাতেই তাঁদের উপর নেমে আসে চরম দুঃস্বপ্ন।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 22:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে (Gujarat) পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন বাংলার ১৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক (Bengali Migrant Worker)। বাংলাদেশের নাগরিক সন্দেহে (Bangladeshi) তাঁদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল সুরাট পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মনে করে এখনও আতঙ্কে কাঁটা বাংলার শ্রমিকরা জানিয়ে দিয়েছেন— আর রাজ্যের বাইরে কাজ করতে যাবেন না, এ রাজ্যেই থেকে জীবন চালাবেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জুলাই। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের সাহড়দা ও সবং থানার শীতলদা এলাকার ১৬ জন যুবক কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন গুজরাতের সুরাটে। সেদিন রাতেই তাঁদের উপর নেমে আসে চরম দুঃস্বপ্ন। অভিযোগ, সুরাট থানার পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে ১০ জনকে থানায় তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয়, দেখানো হয় বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ভয়।
ধৃতদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চাওয়া হয়। তারা ভারতীয় নাগরিক তা প্রমাণ করেও রেহাই পাননি। ১১ দিনের দীর্ঘ ‘নরকযন্ত্রণা’র পর ৭ অগস্ট রাত ১২টা নাগাদ ছেড়ে দেয় পুলিশ। ততদিনে আতঙ্কে ও ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। ঘটনার কয়েক দিন পরই ৩ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরে আসেন। বাকি ১৩ জন স্থানীয় একটি কোম্পানির গুদামে আশ্রয় নেন।
শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বই থেকে ট্রেনে উঠে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছন তাঁরা। স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন পিংলার বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতি, জেলা পরিষদের সদস্য বীরেন্দ্র নাথ মাইতি, পিংলার তৃণমূল নেতা চণ্ডী সামন্ত-সহ একাধিক নেতা।
পিংলার সাহড়দার শ্রমিক অরূপ জানা বলেন, “গুজরাতে গিয়ে এতটা অপমান ও ভয় পাইনি কখনও। থানায় নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশি বলে মারধর করা হল! অবশেষে ছাড়া পেলেও আমরা আর কখনও গুজরাতে বা বাইরে যাব না। বিধায়ক অজিত মাইতি আমাদের ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”
অজিত মাইতি বলেন, “আমরা সরকারি স্তরে চেষ্টা করব যাতে এদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। ওদের সব বায়োডাটা থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে।”
অরুপের মা লতিকা জানা আবেগে ভেসে বলেন, “ছেলে ফিরে এসেছে, এটাই বড় প্রাপ্তি। এখানে যা কাজ জুটবে, সেটাই করবে। আর দূরে কোথাও যাবে না।”
খড়গপুরের এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা। গুজরাত-সহ বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠছে। কখনও ভাষাগত বিদ্বেষ, কখনও জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। এবার বাংলাদেশি ‘তকমা’ দিয়ে সরাসরি থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল সুরাট পুলিশের বিরুদ্ধে।