১১৬০ কিমি ও ৪৫০ কিমি পথ হেঁটে রেকর্ড করল দু’টি বাঘ, নজিরবিহীন ঘটনা বললেন বিশেষজ্ঞরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা হাঁটছে। হেঁটেই চলেছে। হাঁটার যেন বিরাম নেই। একজন পেরিয়ে গেছে ১১৬০ কিলোমিটার পথ, অন্যজন ৪৫০ কিলোমিটার। একজন সি১, অপরজন কে৭। হলদে-কালো ডোরাকাটা এই দুই রয়্যাল বেঙ্গল তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ির জন্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড করে ফেলেছে।
শেষ আপডেট: 10 November 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা হাঁটছে। হেঁটেই চলেছে। হাঁটার যেন বিরাম নেই। একজন পেরিয়ে গেছে ১১৬০ কিলোমিটার পথ, অন্যজন ৪৫০ কিলোমিটার। একজন সি১, অপরজন কে৭। হলদে-কালো ডোরাকাটা এই দুই রয়্যাল বেঙ্গল তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ির জন্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড করে ফেলেছে।
২১ জুন মহারাষ্ট্রের যবৎমলের টিপেশ্বর সংরকক্ষণ কেন্দ্রে থেকে বেরিয়ে পড়ে সি১। তিন মাসের মধ্যে এই পূর্ণবয়স্ক বাঘটি মহারাষ্ট্র ও তেলঙ্গানার ছ’টি জেলা পার করে ফেলেছে। কে৭ বাঘের বয়স খুবই কম। শাবকই বলা চলে। তেলঙ্গানার ফালগুনা থেকে বেরিয়ে সে এখন ৪৫০ কিলোমিটার পথ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পাড়ি দিয়ে মানুষের বসতি এলাকায় ঢুকেছে। রেডিও কলার পরানো থাকায় দু’টি বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বন দফতর।
সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে দুটি বাঘেরই উধাও হওয়ার খবর মেলে গত ১১ সেপ্টেম্বর। বাঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের অভাব, এলাকা দখলের লড়াই নানা কারণে বাঘেরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করে। এই বাঘ দুটিও তাই করতেই বেরিয়েছিল। তবে অন্যান্য জাতীয় উদ্যান বা বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে দেখা যায়, বাঘেরা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে না। ব্যতিক্রম সি১ ও কে৭। দু’জনেরই থামার বা ফিরে আসার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার এস বেণুগোপাল বলেছেন, ‘‘এটা সত্যিই খুব বিরল ঘটনা। এতটা দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে বাঘেদের দেখা যায়নি। চেনা এলাকার বাইরে পদে পদে বিপদ থাকে। গ্রামবাসীদের আক্রমণ বা চাষের জমির বৈদ্যুতিক তার, এই সব কিছুই কৌশলে পেরিয়ে গেছে তারা।’’
বেণুগোপাল জানিয়েছেন, সি১ বাঘের গতিবিধি বিস্ময়কর। এই পূর্ণবয়স্ক বাঘটি পেনগঙ্গা থেকে ইসাপুর পাখিরালয় পেরিয়ে পুসাড়, হিঙ্গোলি, ওয়াসিম এবং আকোলা পেরিয়ে এখন একটি গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় তার গতিবিধি এতটাই সতর্ক যে কোনও গ্রামবাসীই বাঘটিকে দেখতে পাননি। রেডিও কলার পরানো না থাকলে তার কোনও খোঁজই পাওয়া যেত না। তবে এখনও অবধি কোনও মানুষ সি১-এর শিকারে পরিণত হয়নি এটা নিশ্চিত করেছেন ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার বেণুগোপাল। অমরাবতীর মেলঘাট ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে থেকে বাঘটি এখন ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
মহারাষ্ট্র বনবিভাগের শীর্ষ আধিকারিক নিতিন এইচ কাকোডকার বলেছেন, ২০১৪ সালের পরে রাজ্যে বাঘের সংখ্যা বেড়েছিল ১৯০টি, গত বছর সেটাই বেড়ে হয় ৩১২টি। প্রতিটি বাঘকে নজরে রাখার জন্য রেডিও কলার পরানো হয়। সমস্যা যেটা তৈরি হচ্ছে, সেটা হল এলাকা দখলের লড়াই। ফলে নিরাপদ স্থানের খোঁজে বাঘেরা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে পা রাখছে।
রাজস্থানের রণথম্বোরে গত মাসেই রণংদেহী মূর্তিতে যুদ্ধ শুরু হয় দু’টি বাঘের। সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে পোস্ট করেন ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস অফিসার প্রবীণ কাসওয়ান। এলাকা দখলের লড়াই, না সঙ্গিনী বাছার প্রতিযোগিতা, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বলা হয় বাঘ দু’টি মানুষখেকো হয়ে উঠেছিল। রাজস্থানের বন দফতর জানাচ্ছে এই জাতীয় উদ্যানের সিংহভাগ বাঘই মানুষখেকো হয়ে গেছে। জাতীয় উদ্যান লাগোয়া জনবসতি এলাকায় অনেক বেশি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA) ।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/why-ranthambore-tigers-are-killing-more-and-more-humans-nowadays/