দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে ঝাড়খণ্ডে মোটর বাইক চোর সন্দেহে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে জনতা। তাঁর নাম শামস তাবরেজ। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। চারদিন পুলিশ হেপাজতে থাকার পর তিনি মারা যান। তাবরেজের বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেছেন, পুলিশ হেপাজতে থাকার সময় তাঁর ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি। বাড়ির লোককে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বহু আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ এবং ডাক্তারদের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। ইতিমধ্যে অবশ্য ঝাড়খণ্ড সরকার বিশেষ তদন্তকারী টিম (সিট) গঠন করেছে। আগামী বুধবারের মধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে তাবরেজের মৃত্যু নিয়ে রিপোর্ট দেবে সেই টিম।
২৪ বছরের তাবরেজ ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু জামশেদপুর থেকে সরাইকেলা-খারসোয়ানের কারসোভায় নিজের বাড়িতে আসছিলেন। তিনি যখন বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে তখন মোটর বাইক চোর সন্দেহে তাঁকে পাকড়াও করে জনতা। তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে।
তাবরেজের স্ত্রী শাহিস্তা পারভিন বলেন, স্বামীই ছিলেন আমার একমাত্র অবলম্বন। আমি ন্যায়বিচার চাই। সরাইকেলা-খারসোয়ানের পুলিশ সুপার কার্তিক এস বলেন, ঠিক কী ঘটেছিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের পরিবারের লোকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাপু মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিও তাদের মধ্যে আছে।
ঝাড়খণ্ডে বিরোধী কংগ্রেস দাবি করেছে, নিহত তাবরেজের স্ত্রীকে চাকরি দিতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৫০ লক্ষ টাকা।