দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে বালতি বালতি দুধ। ট্রাক থেকে নামিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে আলু, টমেটো, সবজি। ফেলে দিচ্ছেন সেই ফসল ফলানো কৃষকরাই। স্লোগান দিচ্ছেন, ‘গ্রাম বন্ধ, কৃষকরা ছুটিতে’। আজ থেকে দশ দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
এই হরতালের ডাক দিয়েছে ১৩০টা কৃষক সংগঠনের যুক্ত মঞ্চ রাষ্ট্রীয় কৃষক মহাসঙ্ঘ। বিজেপির প্রতিশ্রুতি দেওয়া ন্যূনতম সহায়ক মূল্য না পাওয়াতেই শুরু হয়েছে এই বিক্ষোভ।
এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে দেশের বিভিন্ন শহরে। দেখা দিতে পারে দুধ ও অন্য তরিতরকারির অভাব। বাড়তে পারে দামও। আশঙ্কায় দিল্লি সহ বেশ কিছু শহরেই এখন থেকে সবজি কিনে রাখছেন সাধারণ মানুষ।
এই হরতালে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন একই দাবিতে গত বছরের জুন মাসে মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডসরের কৃষক বিক্ষোভের ছায়া। অশান্তি আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের নির্দেশে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে গোটা মধ্যপ্রদেশ। কড়া নিরাপত্তা মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাবেও।
https://www.youtube.com/watch?v=q9XaLZTyYkM
তবে কৃষক নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই করতে চান তাঁরা। তাঁদের মতে, কৃষকরা টমেটো আর কুমড়ো মতো সবজির দাম পাচ্ছেন কেজিতে এক টাকা। পেঁয়াজ কেজিতে পঞ্চাশ পয়সা। এই অবস্থায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্যর পাওয়ার জন্য আন্দোলন করা ছাড়া উপায় নেই। গোটা দেশের কৃষিঋণ মুকুবেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী ঐক্যের মুখে ইতিমধ্যেই কোণঠাসা নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কাইরানার হারের পর বেড়ে গিয়েছে বিজেপির রক্তচাপ। এর মধ্যে কৃষকদের আন্দোলন তাদের আরও চাপে ফেলবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং অবশ্য সোজাসাপটা দোষ দিচ্ছেন কংগ্রেসকে। তিনি বলছেন, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই কৃষকদের প্রতি দায়বদ্ধ, কৃষকদের জন্য অনেক কাজই করা হচ্ছে।
(ছবি: গত বছরের কৃষক বিক্ষোভের সময় এ ভাবেই দুধ ফেলে দেন কৃষকেরা)