দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বেধে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে ছাত্রদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ জানাল, অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা কেউ ছাত্র নয়। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ জানিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বাসিন্দা। তাদের বাড়ি জামিয়া ও ওখলা এলাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার পুলিশি অভিযান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।
নাগরিকত্ব বিরোধিতায় শুক্রবার থেকে আন্দোলনে নামেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়ারা। রবিবার তা চরম আকার ধারণ করে। এদিন নিউ ফ্রেন্ড কলোনিতে প্রথমে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মথুরা রোড-সহ একাধিক রাস্তা অবরূদ্ধ হয়ে যায় বিক্ষোভের জেরে। যান চলাচলের উপরে তীব্র প্রভাব পড়ে। কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানী। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচোবানি খেতে হয় পুলিশকে।
শেষমেশ লাঠিচার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাস— বাদ পড়েনি কিছুই। রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায় পুলিশের। এর পরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। বিকেলে, পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাত্ররা ঢুকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে।
এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু ‘বহিরাগত’কে এদিন গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে প্রথমেই প্রধান ফটকগুলি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তার পরেই গ্রেফতার করে কিছু বহিরাগতকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে চিফ প্রোক্টর ওয়াসিম আহমেদ খানের অভিযোগ, “পুলিশ বাহিনী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে কোনও অনুমতি ছাড়াই। আমাদের কর্মী এবং ছাত্রদের মারধর করা হচ্ছে। তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।”
সূত্রের খবর, ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে পরীক্ষা। সে পরীক্ষা কবে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।