দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখে হাসি আর চোখে জল নিয়ে, প্রবল হাততালির মধ্যে দিয়ে সারা দেশের দিল জিতে নিয়েছিলেন তিনি। অভিনন্দনের ঢল নেমেছিল হুড়মুড়িয়ে। যতটা তাঁর সাফল্যের প্রতি মুগ্ধতায়, ততটাই যেন তাঁর লড়াইয়ের প্রতি কুর্নিশে।
তিনি বিনীতা জৈন। 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি-১০' অনুষ্ঠানের মঞ্চে সম্প্রতি কোটি টাকা জিতে যাওয়া প্রতিযোগী। সাফল্যের প্রাথমিক ঝড় সামলে অসমের বিনীতা জানিয়েছেন, প্রাপ্ত টাকা দিয়ে ছেলের জন্য একটি ডেন্টাল ক্লিনিক তৈরি করে দেবেন তিনি। আপাতত জীবন-সংগ্রামে সেটাই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে বিনীতা বলেন, "এই সব কিছুর বাইরে যদি বিশেষ কোনও প্রাপ্তি থাকে, তা হল অমিতাভ বচ্চনের সান্নিধ্য। এত বড় এক জন তারকা হওয়ার পরেও উনি ভীষণ ভাবে মাটির কাছাকাছি থাকেন, অত্যন্ত আপন ভাবে উনি প্রতিযোগী ও দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন। আমি কখনও ভাবিনি, এভাবে আলোকিত হবো আমি।"
কিন্তু এ তো গেল জয়ের পরের গল্প। যা কম-বেশি একই হয় সকলের ক্ষেত্রে। কিন্তু জয়ের পেছনের পথটা সকলের সমান হয় না, সেখানেই লুকিয়ে থাকে যুদ্ধের গল্প, প্রস্তুতির রোজনামচা।
শুধু ভাগ্যের ভরসায় যে সাফল্য আসে না, তা বলাই বাহুল্য। তাই যখনই বিনীতা জেনেছিলেন তিনি কেবিসি-র ফাইনাল রাউন্ড অবধি পৌঁছতে পেরেছেন, তখনই শুরু করেন পড়াশোনা। তাঁর কথায়, "এমনিতে বইপত্র পড়ার খুব বেশি অভ্যেস নেই আমার। কিন্তু আমি অনলাইনে অনেক কিছু পড়ি। তাই কেবিসি-তে বসার প্রস্তুতিও শুরু করি অনলাইনেই।"
আর সেই পড়াশোনা যে একেবারেই ব্যর্থ হয়নি, তার প্রমাণ গত সপ্তাহে বিনীতার এক কোটি টাকা জয়।
তবে এই জয়ের পিছনে যে তাঁর সৌভাগ্য একটা বিশেষ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে, তা কোনও ভাবেই অস্বীকার করছেন না বিনীতা। বলছেন, "জ্ঞান অবশ্যই জরুরি, তবে ভাগ্যও চাই বৈ কী! হাজার-হাজার মানুষ ফোনে লাইনই পান না। সেখানেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তাঁদের। জ্ঞান হয়তো অনেকেরই থাকে। কিন্তু সেই জ্ঞানকে উপস্থাপিত করার মঞ্চ অবধি পৌঁছতে পারাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেই দিক থেকে আমি আমার ভাগ্যের কাছে কৃতজ্ঞ।"
২০০৩ সালে বিনীতার স্বামীকে অপহরণ করেন জঙ্গিরা। ১১ ও ৬ বছরের দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অকূল পাথারে পড়া, সে দিনের সেই ৩২ বছরের তরুণী দাঁতে দাঁত চেপে হাত মিলিয়েছিলেন চরম কঠিন এক জীবনের সঙ্গে। "জীবন আমার প্রতি খুব একটা সদয় ছিল না। ওঁর অপহৃত হওয়ার পরে জীবন যেন এক ঝটকায় ইউ-টার্ন নিয়েছিল। সেই থেকে ১৫ বছর ধরে লড়াই করে আজ একটা জায়গায় হয়তো পৌঁছতে পেরেছি। কিন্তু আমার স্বামী এখন কোথায়, কেমন আছেন, সে বিষয়ে আজও গভীর অন্ধকারেই আছি আমরা। ক্ষীণ আশার আলো এটুকুই, কোনও এক দিন হয়তো খবর আসবে ওঁর।"-- ধরা গলায় বলেন বিনীতা।