বেকারত্ব বেড়েই চলেছে দেশে, শুধু জুলাইতেই কর্মহীন ৫০ লাখ চাকরিজীবী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসংগঠিত ক্ষেত্র তো বটেই করোনা কালে বেতনভূক কর্মীদের কাজ হারানোর সংখ্যাও অনেক। শুধু জুলাই মাসেই কাজ হারিয়েছেন ৫০ লাখ চাকরিজীবী। আর এপ্রিল থেকে কর্মহানির এই সংখ্যাটা ১.৮৯ কোটি। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়
শেষ আপডেট: 19 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসংগঠিত ক্ষেত্র তো বটেই করোনা কালে বেতনভূক কর্মীদের কাজ হারানোর সংখ্যাও অনেক। শুধু জুলাই মাসেই কাজ হারিয়েছেন ৫০ লাখ চাকরিজীবী। আর এপ্রিল থেকে কর্মহানির এই সংখ্যাটা ১.৮৯ কোটি। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সিএমআইই)।
আরও পড়ুন
টানা লকডাউন শেষ করে আনলক পর্বে একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু তাতেও করোনা মহামারীর ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশ। যার প্রভাব পড়ছে সব ক্ষেত্রেই। বেতনভূক চাকরিজীবীরাও কাজ হারাচ্ছেন। আর সেই সংখ্যাটা আশঙ্কাজনক। এই বিপুল সংখ্যক বেতনভূক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়া অর্থনীতির পক্ষে মোটেই শুভ লক্ষণ নয় বলেই মনে করছে সিএমআইই।
ভারতে সংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্ত ধরনের কর্মসংস্থানের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশই মাসিক বেতনের ভিত্তিতে। কোনও রকম অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হলে সাধারণত বেতনভূক কর্মীরাই তুলনামূলক ভাবে নিরাপদে থাকেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু দেশে সেই বেতনভূক কর্মীদের কাজ হারানোর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সিএমআইই -এর সিইও মহেশ ব্যাস জানিয়েছেন, বেতনের ভিত্তিতে কাজ হারানোর ঝুঁকি যেমন কম, তেমনি আবার একবার কাজ চলে গেলে ফের জোগাড় করাও কঠিন। সেই কারণে, বেতনভূক কর্মীদের কাজ হারানো বড় সংখ্যায় বাড়তে থাকলে তা যথেষ্টই উদ্বেগজনক।
সিএমআইই জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি কর্মহানী হয় এপ্রিল মাসে। ১.৭৭ কোটি বেতনভূক কর্মী কর্মহীন হয়েছেন শুধু এপ্রিলে। মে মাসে এই সংখ্যাটা ১ লাখ। জুনে ৩৯ লাখ আর জুলাইতে প্রায় ৫০ লাখ বেতনভূক কর্মী কাজ খুইয়েছেন। এপ্রিলের পর থেকে কর্মহানীর সংখ্যা ধাপে ধাপে কমলেও এখনও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে।
মহেশ ব্যাস জানিয়েছেন, "২০১৯-২০ আর্থিক বছরের তুলনায় দেশে এখন প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ বেতনভূক কাজ কম। গত আর্থিক বছরের তুলনায় এটা ২২ শতাংশ কম।" সিএমআইই-র তথ্য বলছে, এই সময়ে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা ৬৮ লাখ কর্মীও কাজ হারিয়েছেন। তবে এই সময়টায় ১.৪৯ কোটি মানুষ চাষাবাদের কাজ করেছেন। এত বেতনভূক চাকরিজীবীর কাজ হারানোর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেক সংস্থাই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। অনেকে বেতন কমিয়ে দিয়েছে বা বিনা বেতনে ছুটি দিয়ে দিয়েছে কর্মীদের।