দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের নির্জন রাস্তায় কোনও সহৃদয় ব্যক্তি যদি এসে বলেন, "আপনাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াই আমার কাজ!" কেমন প্রতিক্রিয়া হবে একজন মহিলার? অবাক হবেন, চমকে উঠবেন নাকি অবিশ্বাস করে নিজের পথ ধরবেন? পাঁকে পদ্মফুল ফোটার মতোই কিছু ভাল মানুষও যে এখনও দেশের আনাচ কানাচে বেঁচে আছেন সেটাই প্রমাণ করেছেন দিল্লির এক অটো চালক। তাঁর কথা শুনে এমন ভাবেই চমকে উঠেছিলেন কলকাতার এক তরুণী।
তরণীর নাম নেহা দাস। কলকাতার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে দিল্লিতে বাস। খুন, ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহের তকমা আঁটা দিল্লির নির্জন রাস্তায় রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে নানা আশঙ্কার সম্ভাবনা যখন তরুণীর মনে উঁকি দিচ্ছিল তখনই পরিত্রাতার মতো আবির্ভাব হয় ওই অটো চালকের। নিজের ফেসবুক পোস্টে রাতের সেই ঘটনারই পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন নেহা। তাঁর পোস্ট ইতিমধ্যেই ছেয়ে গেছে গোটা নেট দুনিয়ায়। মন জয় করেছে লক্ষ লক্ষ দেশবাসীর।
নেহার কথায়, অফিস থেকে মাঝরাতে বেরিয়ে অটো ধরার জন্যই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শীত পড়তে শুরু করেছে। দিল্লির রাস্তা সন্ধের পর থেকেই অনেক ফাঁকা হয়ে যায়। মাঝরাতে চারদিকে থমথমে নিস্তব্ধতা। দু'একটা গাড়ি তীব্র গতিতে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। বাড়ি কী ভাবে ফিরবেন ভাবনার মাঝেই দেখেন একটা অটো এসে হাজির। চালক হাসি মুখে বললেন, "উঠে আসুন, ভাড়া লাগবে না।"
https://www.facebook.com/neha.das.106902/posts/1923315544410677:0
এমন অবাক করা কথা শুনে খানিকটা স্তম্ভিতই হয়ে গেছিলেন তরুণী। একটা অজানা আশঙ্কাও যে ছিল না তা নয়। সেটা আঁচ করেই চালক বললেন, "রাতে মহিলাদের থেকে ভাড়া নিই না। তাঁদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াই আমার কাজ।"
চালকের নাম প্রবীণ রঞ্জন। তাঁর সম্বন্ধে এর থেকে বেশি কিছু এখনও জানা যায়নি। আপ্লুত তরুণীর ভাষায়, নামে নয় তাঁর কাজই তাঁর একমাত্র পরিচয়। এই ঘটনা মহিলাদের উপর ঘটে চলা অপরাধের মাত্রাকে লঘু করবে কি না জানা নেই, তবে প্রবীণ সমাজের অনেক মহিলাদের চোখেই 'হিরো' হয়ে থাকবেন।