
শেষ আপডেট: 1 October 2018 18:30
এলাকারা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই বহুতলের নীচেই ছিল একটি ফলের গুদাম। বোমা ফাটে সেখানেই। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফলের গুদামের শাটার ভেঙে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। জখম হন এক মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত দশ জন।
https://www.youtube.com/watch?v=eYNlcSrUdcQ
পুলিশ জানিয়েছে, জখমদের প্রথমে আইএলএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে নিয়ে আসা হয় আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে। এই পাঁচজনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিন জনের নাম জানা গিয়েছে, তাঁরা হলেন অভিজিৎ হালদার, চন্দ্র শেখর গুপ্ত এবং রাজেন রাজভর। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়। আহত শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত্যু হয় আট বছরের বিভাস ঘোষের। শিশুটির মা বাসন্তীদেবীও হাসপাতালে ভর্তি। বাকি আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওই বহুতলেই রয়েছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। এই কার্যালয়েই বসেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার পুরপ্রধান পাচু রায়। প্রতিদিন সকাল ১০টা নাগাদ অফিসে বসেন তিনি। এ দিন ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। পুরপ্রধানের দাবি, ওই বিস্ফোরণের লক্ষ্য ছিলেন তিনিই। তাঁর কথায়, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে বোমা রাখা হয়েছিল। টার্গেট ছিলাম আমিই।’’
ঘটনার পর নাগেরবাজারে পৌঁছয় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা বলেছেন, ‘‘ব্যারাকপুর কমিশনার রাজেশ কুমার সিংহকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বম্ব ডিজপোজাল টিম গেছে এলাকায়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও বিস্ফোরক আছে কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে।’’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। তবে ঘটনাক কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি বলে সিআইডি সূত্রে খবর।
স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বসু এ দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সকেট বোমা ফেটেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলও এই ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। দলের কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা, বখরা নিয়ে সমস্যার কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।