
শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 26 March 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে মধ্যেই সোশ্যাল মাধ্যমে সরকারি নথি তুলে ধরে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। কোথা থেকে পান সেই সব তথ্য, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ছিলই।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই রহস্যের সমাধান করলেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, "প্রশাসনের একাংশই সব তথ্য দেয়!" শুধু এখানেই না থেমে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে শুভেন্দু এও বলেন, "প্রশাসনের একটা অংশ আপনাদের বিরোধী!""
এই মুহূর্তে বিদেশ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদেশ সফরে রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও। রাজ্য ছাড়ার আগে প্রশাসন সামলানোর জন্য সর্বোচ্চ কর্তাদের কয়েকজনকে নিয়ে বিশেষ কমিটিও তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, প্রশাসনের অন্দরে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করার জন্যই সম্ভবত এই বিশেষ মুহূর্তে এমন দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা। অপর একটি অংশের মতে, এই প্রথম নয়, এর আগেও শুভেন্দু দাবি করেছেন, প্রশাসনের ভেতর থেকেই তিনি অনেক খবর পান। তাঁদের মতে, প্রশাসনেও সরকার বিরোধী লোক থাকে। ফলে শুভেন্দুর এমন দাবি সেই অর্থে বিশেষ অর্থবহ কখনওই নয়।
তবে এদিন যেভাবে 'প্রশাসনের একাংশকে তিনি রাজ্যের শাসকের বিরোধী' বলে মন্তব্য করেছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। বিভিন্ন সভা সমাবেশ থেকে এখনই শুভেন্দু দাবি করেন, ২৬ সালে বাংলার তখতে বসবে বিজেপি। সেদিক থেকে সরকারি তথ্য পাওয়ার খবর জানিয়ে বিরোধী দলনেতা সরকারি কর্মীদের একাংশকেও বার্তা দিয়ে রাখলেন বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
ভিন্ন মতও রয়েছেন। এখনকার দিনে তথ্য জানার অধিকার আইনে সহজেই সরকারি নথি পাওয়া যায়। একথা মনে করিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, প্রশাসনের অভ্যন্তরে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করতেও এমন কথা বলে থাকতে পারেন বিরোধী দলনেতা। যদিও শুভেন্দুর এমন দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না শাসকদল।
তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতার কথায়, "ভোট এলে মানুষ বিজেপি নেতাদের দেখা পায়। আর তৃণমূলের লোকজন সারাবছর মানুষের পাশে থাকে। ফলে শুভেন্দু কী বলল, তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই।"