স্থানীয়রা বলছেন, এজরা স্ট্রিট এমনিতেই শ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই। উপরে জটলা করা বৈদ্যুতিক তার, দু’পাশে পর পর দোকান, মাঝখানে সরু গলি।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল লালবাজার সংলগ্ন এলাকা (Ezra Street , Lalbazar)। এজরা স্ট্রিটের ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার মুহূর্তে পরিণত হল লেলিহান শিখার গ্রাসে (Terrible Fire)। একের পর এক বিল্ডিং গিলে নিচ্ছে আগুন। দমকলের ইঞ্জিন বাড়ছে, কিন্তু আগুনের নাগাল মিলছে না। উল্টে প্রতি মিনিটে খাপছাড়া ভাবে বাড়ছে আগুনের তীব্রতা।
শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ এজরা স্ট্রিটের একটি বৈদ্যুতিন পণ্যের দোকানের দ্বিতীয় তলে প্রথম আগুন দেখা যায়। মিনিট দশেকের মধ্যে শিখা এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই পুরো বিল্ডিংকে গ্রাস করে ফেলে। আশঙ্কা সত্যি হয় আরও কিছুক্ষণের মধ্যেই— রাস্তার উল্টোদিকের সাদা ভবনেও লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়িয়ে পড়ে শিখা। এক তলা, দুই তলা পেরিয়ে মুহূর্তে আগুন উঠে যায় দশতলার ছাদ পর্যন্ত। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দমকলের ২০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এজরা স্ট্রিট এমনিতেই শ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই। উপরে জটলা করা বৈদ্যুতিক তার, দু’পাশে পর পর দোকান, মাঝখানে সরু গলি। দমকল কর্মীরা মূল আগুনের উৎসে পৌঁছতেই পারছেন না। যে বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছিল, তার মাঝের অংশে ঢোকার উপায় নেই বললেই চলে। সামনের আগুন নেভানো গেলেও মাঝখানের অংশে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকায় ফের শিখা ছড়িয়ে পড়ছে পাশের বাড়িগুলিতে।
আগুনের তাপ এমনই তীব্র যে দমকলকর্মীদের ঢুকতে কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় আশেপাশের বাসিন্দারাই বালতি, পাইপ, বোতল— যা পেয়েছেন তাই নিয়ে ছুটে এসে জল ঢেলে সাহায্য করছেন।
এজরা স্ট্রিটের এই বাজারে রয়েছে প্রায় ৩০০–৩৫০টি ইলেকট্রিক ও লাইটের দোকান। অনেকের মালপত্র রীতিমতো রাস্তাতেই থাকে। আগুন বাড়তেই সকাল থেকেই দেখা গেল আতঙ্কে ছুটতে ছুটতে নিজের জিনিস মাথায় তুলে, ঘাড়ে চাপিয়ে, কাঁধে নিয়ে দোকান থেকে বার করছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ নিজের দোকানের শাটার খুলে যা পাচ্ছেন তাই ছুড়ে বার করে দিচ্ছেন।
যে দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত— তার মালিক ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। তাঁর কথায়, “কয়েক কোটি টাকার মাল রাখতাম এখানে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল।”
কেবল তাঁরই নয়, আশেপাশের বহু দোকানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই আগুনে কয়েকশো কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গিয়েছে।
বেলাগাম আগুনের তাণ্ডবে গোটা বড়বাজারজুড়ে এখন কার্যত হাহাকার। দমকলের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে ব্যবসায়ীরা, দোকানকর্মীরা, এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু আগুনের দাপটে সব প্রচেষ্টাই যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে। কলকাতার অন্যতম জমজমাট বাণিজ্যকেন্দ্রে নেমে এসেছে কালো ধোঁয়ার ছায়া— আর সেই সঙ্গে অসহায়তা, উৎকণ্ঠা, আর বিপুল ক্ষতির মেঘ।