
শেষ আপডেট: 9 December 2023 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুতে চোর চোর স্লোগান উঠলেও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মধ্যস্থতায় সাময়িক জট কাটার আশা দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
ধর্নামঞ্চ থেকেই টেলিফোনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে কথা বলেন কুণাল। কথা বলিয়ে দেন চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গেও। এরপরই জট কাটাতে দু’পক্ষর বৈঠকের আয়োজন হয়। জানা গেছে আগামী সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন চাকরিপ্রার্থীদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। দুপুর তিনটেয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা নিজেদের কথা জানাবেন।
পরে কুণাল বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করতে চায় না বলেই এতদিন এখানে আসিনি। তবে ওদের সঙ্গে আমার বরাবরই যোগাযোগ রয়েছে। রাসমণিকে মাথা ন্যাড়া হতে দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তাই সোজা ওদের ধর্না মঞ্চে চলে এসেছি।”
শাসকদলের প্রতিনিধির ধর্নামঞ্চে আসা এবং মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় খুশী চাকরিপ্রার্থীরাও। তাঁরা বলছেন, “এক হাজার দিন ধরে রোদে, জলে বসে টানা আন্দোলন করে চলেছি। আমরা চাইছিলাম, সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করুক। যাতে নতুন বছরের শুরু থেকে আমরা স্কুলে যেতে পারি। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। এটা অবশ্যই আন্দোলনের জয়।”
কুণাল বলেন, “এরা যোগ্য এবং উপযুক্ত। কিছু জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে পৌঁছে ওদের চাকরি আটকে গেছে। বিষয়টি আদালতেরও বিচারাধিন। মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীও চান যোগ্যরা চাকরি পান। এই জটিলতা কাটাতে বৈঠক হওয়া জরুরি।”
একই সঙ্গে কুণাল বলেন, “ভুল তো কেউ না কেউ করেইছে। একজন পাপের ফল অন্যজন কেন ভোগ করবে। সরকার পাপ করে থাকলে তাকেই এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।” অর্থাৎ দোষীদের শাস্তির বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে তিনিও যে সহমত, এদিন ধর্নামঞ্চে এটাও স্পষ্ট করতে চেয়েছেন কুণাল।
ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে চাকরিপ্রার্থীরা যে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তা শনিবার সহস্র দিনে পা দিল। এদিন বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পারদ আরও চড়াতে রাসমণি পাত্র নামে এক চাকরিপ্রার্থী মাথা মুড়িয়ে ফেলেন। তা দেখে সহানুভূতি জানাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি নেতারা।
পরিস্থিতি যখন এমনই, তখন বিকেল সওয়া ৩টে নাগাদ দেখা যায় আন্দোলনকারীদের মঞ্চে পৌঁছন কুণাল ঘোষ। সেখানে পৌঁছেই কুণাল বলেন, “আমি ক্যামেরায় মুখ দেখাতে আসিনি। ন্যাড়া হচ্ছেন দেখে খারাপ লাগল তাই এসেছি। তা ছাড়া চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার একটা কথা চলছে”। কিন্তু কুণাল তাঁর কথা শেষ করার আগেই চার পাশ থেকে চোর চোর স্লোগান উঠতে শুরু করে। বিরোধিতার মুখে পড়েও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বসে পড়েন কুণাল। তার পর সেখান থেকে ফোন লাগান শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে।