মঙ্গলবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিকাশি সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেল। এতদিন হয়নি এখন কী করে হল? প্রশ্ন করতে বিধায়কের জবাব, "আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিচ্ছি। প্রধান উপপ্রধানরা দিচ্ছে আমি দিচ্ছি। এই কাজ যদি দীর্ঘদিন চলে তাহলে পঞ্চায়েতের নিজস্ব যে ফান্ড রয়েছে অন্য কাজে ব্যবহার করার, সেই কাজ বন্ধ রেখে এই কাজ করতে হবে।"

শেষ আপডেট: 2 December 2025 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সোমবার পঞ্চায়েত জানিয়েছিল টাকা নেই। বিধায়ক জানিয়েছিলেন, একশো দিনের কাজ বন্ধ। তাই কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। সারাবছর জল যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা সুকান্তনগরের বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা ভোটই দেবেন না।
মঙ্গলবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিকাশি সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেল। এতদিন হয়নি এখন কী করে হল? প্রশ্ন করতে বিধায়কের জবাব, "আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিচ্ছি। প্রধান উপপ্রধানরা দিচ্ছে আমি দিচ্ছি। এই কাজ যদি দীর্ঘদিন চলে তাহলে পঞ্চায়েতের নিজস্ব যে ফান্ড রয়েছে অন্য কাজে ব্যবহার করার, সেই কাজ বন্ধ রেখে এই কাজ করতে হবে।" বাসিন্দারা মনে মনে প্রবাদ আওরাচ্ছেন 'শেষ ভালো যার, সব ভালো তার'।
বছরভর হুগলির কোদালিয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকান্তনগর এলাকার বাসিন্দাদের দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে থাকতে হয়। নর্দমার জল ঢুকে যায় বাড়িতে। নোংরা দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, নর্দমায় জোয়ার ভাঁটা খেলে। খেলার মাঠে জল জমে থাকায় ছোটরা খেলতে পারেনা। নোংরা দুর্গন্ধ যুক্ত জল পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের এমনকি বিধায়ককে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তুলে সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার পঞ্চায়েতের লোকজন নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করতে যান। তিনি বলেন, ''চার বছর ধরে কেন্দ্র সরকার টাকা দিচ্ছে না তাই ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। পঞ্চায়েতের ফান্ডে টাকা নেই তাই এই ধরনের কাজগুলো করা যাচ্ছে না।" যারা অভিযোগ করছেন তারা বিজেপির লোক বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তখনই সুকান্তনগরের বাসিন্দারা জানিয়ে দেন, নেতারা যখন কোনও সমস্যার কথা বলতে গেলে শোনেন না, তাই তাঁরা আর ভোট দেবেন না। এরপরেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি নিকাশি সংস্কারের কাজ শুরু হল। এদিন সকাল থেকে ওই এলাকায় জল নিকাশির জন্য নর্দমা পরিষ্কার এর কাজ শুরু হয়। অসিত মজুমদার বলেন, "চার বছর ধরে কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে।১০০ দিনের কাজ বন্ধ। তাই অনেক কাজ করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।"
বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, "বিধায়ক ওই এলাকায় হেরেছেন। তাই এলাকার উন্নয়নের কোনও কাজ তিনি করবেন না। এটা তাঁর ঘোষণাই ছিল। এখন কেন্দ্রের নামে দোষ দিয়ে লাভ আছে!" এই টানাপড়েনে থাকতেই চাইছেন না বাসিন্দারা। আগামী দিনে যাতে তাদের জল যন্ত্রণায় ভুগতে না হয় সেই দাবিতে এককাট্টা তাঁরা।