দ্য ওয়াল ব্যুরো : 'আমরা কিছু পরিমাণে বেনামি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছি। সেই সম্পত্তির সঙ্গে আপনার ও আপনার পরিবারের সম্পর্ক আছে।' আয়কর দফতর থেকে এমনই জানানো হয়েছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে (Ajit Pawar)। পরে জানা যায়, মোট ১ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে আয়কর দফতর। অভিযোগ, ওই সম্পত্তির মালিক অজিত পাওয়ার।
একটি সূত্রে জানা যায়, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মধ্যে আছে দক্ষিণ দিল্লিতে একটি ফ্ল্যাট, নির্মলা হাউসে অবস্থিত একটি অফিস, জরানদেশ্বরে একটি সুগার ফ্যাকটরি এবং গোয়ায় একটি রিসর্ট। এর আগে আয়কর দফতর মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু পরিমাণ বেনামি জমি উদ্ধার করে। তার মূল্য ৫০০ কোটি টাকা। অভিযোগ, সেই জমিরও মালিক অজিত পাওয়ার। আয়কর দফতর বলেছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি যে তাঁর নয়, সেকথা প্রমাণ করার জন্য ৯০ দিন সময় পাবেন অজিত।
সোমবারই মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখকে গ্রেফতার করেছে ইডি। ৭১ বছর বয়সী এনসিপি নেতা দেশমুখকে টাকা তছরুপের মামলায় ১২ ঘণ্টা জেরা করে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। তারপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ইডি-র হাত এড়ানোর জন্য বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন দেশমুখ। কিন্তু হাইকোর্ট তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। সোমবার ভিডিও বার্তায় দেশমুখ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।
মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান পরমবীর সিং অভিযোগ করেছিলেন, দেশমুখ দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি তোলাবাজি করেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চিঠি লিখে পরমবীর সিং অভিযোগ করেছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা তোলা তোলেন।
শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির বাড়ির কাছে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার ঘটনার পরে পরমবীর সিংকে মুম্বইয়ের পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছিল, ওই ঘটনার তদন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে না। দেশমুখ বলেছিলেন, পরমবীর সিং-এর নেতৃত্বে ওই তদন্তে এমন কিছু গাফিলতি হয়েছে যা অমার্জনীয়। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি পরমবীর সিং-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন। এর মধ্যে তৎপর হন বিরোধীরা। তাঁরা দেশমুখের পদত্যাগের দাবি তোলেন।