সন্তান জন্মের পর দম্পতিদের মধ্যে যে বেশিরভাগ চাপ ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তার মূল কারণ হল আগে থেকে একে অপরের কাছে প্রত্যাশা স্পষ্ট না করা।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা (Baby Planning) মানেই বেশিরভাগ দম্পতির নজর থাকে শারীরিক সুস্থতা, পুষ্টি, টেস্ট, সাপ্লিমেন্ট আর সময়সূচির দিকে। কিন্তু চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, এই প্রস্তুতির আর একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মা-বাবা হয়ে ওঠার জন্য সঠিক মানসিক প্রস্তুতি (emotional readiness before pregnancy)।
গবেষণা বলছে, কনসিভ করার আগের মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) সরাসরি প্রভাব ফেলে প্রেগন্যান্সিতে। শুধু তাই নয়, বাবা-মায়ের মানসিক স্থিতি, সম্পর্কের ভাল থাকাতেও এর প্রভাব পড়ে। জন্মের পর শিশুর প্রাথমিক বিকাশেও তার বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের অবদান রয়েছে। এই কারণেই আধুনিক প্রিকনসেপশন কেয়ার-এ এখন মানসিক প্রস্তুতিকে একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে (Pregnancy Preparation)।
খোলামেলা কথোপকথনই প্রথম এবং সহজ ধাপ
মানসিক প্রস্তুতির ভিত্তি তৈরি হয় দম্পতির মধ্যে খোলামেলা কথোপকথনের মাধ্যমে। সন্তানের বড় হয়ে ওঠা, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে হবে। সন্তানের জন্মের পর জীবনের অনেকটাই পাল্টে যেতে চলেছে, তাই সেখানে কার দায়িত্ব কোথায় কতটা হবে, পরিবারেরই বা ভূমিকা কী - এই সব বিষয় নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সন্তান জন্মের পর দম্পতিদের মধ্যে যে বেশিরভাগ চাপ ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তার মূল কারণ হল আগে থেকে একে অপরের কাছে প্রত্যাশা স্পষ্ট না করা।
মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
প্রেগন্যান্সির আগে অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন, দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস বা কোনওরকম ট্রমা থাকলে, তা গর্ভাবস্থায় আরও বাড়তে পারে। যে কোনওরকম মানসিক সমস্যার যদি চিকিৎসা না হয়ে থাকে, তাহলে তা গর্ভকালীন ও সন্তান প্রসবের পর আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আসে।
এটি শুধু মায়ের ক্ষেত্রেই নয়, বাবার মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার মানসিক স্থিতি মায়ের মানসিক অবস্থার উপর এবং শিশুর বিকাশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা দরকার
সন্তান আসার পর অনেক সময়েই দম্পতিরা নিজেদের একা ও অসহায় বোধ করেন। আগে থেকে পরিবারের সমর্থন, কর্মজীবন নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক স্থিতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা সেরে রাখলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে।
সন্তান নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা উচিত
মানসিক প্রস্তুতি বাড়াতে কী করা যায়
বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর উপায়ও জানিয়েছেন—
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসলে শুরু হয় সেই কথোপকথন এবং মানসিক প্রস্তুতি থেকে, যা দম্পতিরা গর্ভধারণের আগেই তৈরি করেন। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দিলে তবেই একটি সুস্থ পরিবার গড়ে তোলা সম্ভব।