Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

২২'শের অনুষ্ঠানে যাবেন বাবরি মামলায় পরাজিত ইকবাল, বললেন অযোধ্যা 'সম্প্রীতির তীর্থক্ষেত্র'

অযোধ্যায় দর্শকাশনে বসে সেই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করার সুযোগ মিলবে শুধু হাজার সাতেক অতিথির। প্রধানমন্ত্রী মোদী ছাড়া দ্বিতীয় যে মানুষটির দিকে অনেকের দৃষ্টি থাকবে, ক্যামেরাম্যানেরা যাঁকে বারে বারে লেন্স বন্দি করার চেষ্টা হবে তিনি অযোধ্যার এক ছাপোষা ব্যক্তি ইকবাল আনসারী।

২২'শের অনুষ্ঠানে যাবেন বাবরি মামলায় পরাজিত ইকবাল, বললেন অযোধ্যা 'সম্প্রীতির তীর্থক্ষেত্র'

শেষ আপডেট: 19 January 2024 18:25

অমল সরকার, অযোধ্যা

২২ জানুয়ারি, সোমবার অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন টিভির পর্দায় গোটা দেশের নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে। মন্দির উদ্বোধন ও রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার মূল অনুষ্ঠানে হাজির থাকবে শুধু দূরদর্শন ও একটি বেসরকারি সংবাদ এজেন্সি। তাদের ব্যবস্থাপনায় গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করবে বহু প্রতীক্ষিত ২২-শের পর্ব। 

অযোধ্যায় দর্শকাশনে বসে সেই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করার সুযোগ মিলবে শুধু হাজার সাতেক অতিথির। যাঁদের অনেকেই আবার নিজ নিজ ক্ষেত্রে তারকা। কেউ ক্রীড়া, তো কেউ চলচ্চিত্র জগতের নামজাদা মানুষ। আবার শিল্প-বাণিজ্যের মধ্যমণিরাও থাকবেন। অমিতাভ বচ্চন, শচীন তেন্ডুলকার, মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদনিরা এখন তামাম ভারতের পরিচিত মুখ। 

যদিও ওইদিনের অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনার রাখলে প্রধানমন্ত্রী মোদী ছাড়া দ্বিতীয় যে মানুষটির দিকে অনেকের দৃষ্টি থাকবে, ক্যামেরাম্যানেরা যাঁকে বারে বারে লেন্স বন্দি করার চেষ্টা হবে তিনি অযোধ্যার এক ছাপোষা ব্যক্তি ইকবাল আনসারী। অযোধ্যার বহু চর্চিত মন্দির-মসজিদ বিবাদ মামলায় যিনি পরাজিত পক্ষ।

আসলে বাবরি মসজিদ মসজিদ রক্ষা, হিন্দু কর সেবকরা সেটি ভেঙে ফেললে তার পুনঃনির্মাণ, জমির দখল চেয়ে দায়ের হওয়া মামলায় মূল মানলাকারি ছিলেন ইকবাল। তবে সেটা ১৯১৬ সাল থেকে। তার আগে, ১৯৬১ থেকে মামলা চালিয়েছেন তাঁর বাবা হাসিম আনসারী। 

বছর পয়ষট্টির ইকবাল আনসারির বাড়ি অযোধ্যার পাঞ্জি কোটিয়াতলায়। নির্মীয়মান রাম মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরে। সেই অযোধ্যায় মন্দির মসজিদ বিবাদ নিয়ে খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের কাছে তিনি খুবই পরিচিত মুখ। যেমন জনপ্রিয় ছিলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের হয়ে প্রথম মামলাকারি হাসিম আনসারী। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট্রের আমন্ত্রিতের তালিকায় তাঁর পুত্র ইকবাল ছাড়া দ্বিতীয় কোনও মুসলিমের নাম থাকার কথা এখনও জানা যায়নি। 

বাবরি মসজিদের দখল চেয়ে প্রথম মামলাকারী ইকবালের বাবা প্রয়াত হাসিম আনসারি

দ্য ওয়াল-কে ইকবাল আনসারী বলেছেন, 'আমি অবশ্যই যাব।  অযোধ্যা হল ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার পুণ্যভূমি। ভারতে কোথাও যদি নির্ভেজাল সম্প্রীতি থাকে তবে তা অযোধ্যায় আছে। আর তাতে অবদান আছে সব ধর্মের মানুষের।' আনসারির কথা কতটা নির্ভেজাল তার সুন্দর সুন্দর এক কাহিনি বৃহস্পতিবারই শুনেছিলাম অযোধ্যার এক সাধুর মুখে। কলকাতা-অযোধ্যা বিমানের সেই যাত্রী শুনিয়েছিলেন, ১৯৬১-তে হিন্দু পক্ষের দাবির বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করেন ইকবালের বাবা হাসিম আনসারি। দিগম্বর আখড়ার মহন্ত রামচন্দ্র পরমহংস ও হাসিম আনসারি এক রিকশয়
চেপে আদালতে যেতেন। পরমহংসের মামলার বিষয় ছিল বাবরি মসজিদ সরিয়ে নিয়ে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হোক।

আনসারী ২২ তারিখের অনুষ্ঠানের শুধু আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তাই-ই নয়, কথা প্রসঙ্গে নিজেই মনে করিয়ে দিলেন পুরনো কথা। ২০১৯ এর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আড়াইশো বছরের পুরনো বিবাদের মীমাংসা করে দিয়ে যে রায় দেয়, তা মেনে নিয়ে বিবৃতি দিয়ে গোটা দেশকে চমকে দিয়েছিলেন বাবরি মসজিদ রক্ষা ও জমি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ আইনি লড়াই করা এই অতি সাধারণ মানুষটি। 

'দ্য ওয়াল'কে তিনি আরো বলেন, কোনও বিবাদ আজীবন চলতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের কথা তো সবাইকে মানতে হবে। রায়ে মন খারাপ হলেও সেটা মেনে নিতে হবে। আদালত সরপক্ষের কথা শুনে তবে রায় দিয়েছিল।' 

রামজন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট, যারা ২২ শের অনুষ্ঠানের আয়োজক, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যাঁদের আমন্ত্রণে মন্দির উদ্বোধন ও মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেতে চলেছেন, তাঁরাই আনসারিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাস্টের দুই সদস্য তাঁর অযোধ্যার বাড়িতে গিয়েছিলেন আমন্ত্রণ পত্র পৌঁছে দিতে। 

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী একদফা অযোধ্যা ঘুরে গিয়েছেন বিমান বন্দর উদ্বোধন করতে এসে। সেদিন শহরে রোড শো করেন মোদী। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে সেদিন প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত নাড়তে দেখা যায় আনসারিকে। তাঁর কথায়, 'প্রধানমন্ত্রী আমার শহরে এসেছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানানো তো আমাদের কর্তব্য। তিনি অযোধ্যার জন্য অনেক কাজ করছেন।'

মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ডাক পেয়ে তাঁর কেমন লাগছে? আনসারির সংক্ষিপ্ত জবাব, 'ওঁরা ( মন্দিরের লোক) ডাকায় ভালই লেগেছে, এবং যাব, এটুকুই আমার প্রতিক্রিয়া।'

সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত মামলার রায়ে দুটি বিষয় বলেছিল। হিন্দুপক্ষের দাবি ছিল, অযোধ্যার  ৫৫-৫৬টি মসজিদের মধ্যে একটি গড়ে উঠেছিল রাম মন্দির ভেঙে। সেই বাবরি মসজিদই ছিল রামচন্দ্রের জন্মস্থান, এমনটাই দাবি করা হয় মামলায়। আদালত সেই দাবি মেনে নিলেও নতুন মসজিদ তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করতে বলে অযোধ্যা প্রশাসনকে নিয়ে। 

আশ্চর্যের হল, প্রস্তাবিত সেই মসজিদ নিয়ে বাবরির মামলকারি আনসরির বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই। শীর্ষ আদালত অযোধ্যা নগরীতেই মসজিদের জমি বরাদ্দ করতে বললেও তা বরাদ্দ হয়েছে শহর থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে ধন্যিপুরে। অর্থাৎ নতুন রাম মন্দিরের অদূরে নয়া মসজিদ তৈরি করে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানকে আরও মজবুত করার সুযোগ হাতছাড়া করা হয়েছে। এজন্য মুসলিম পক্ষের উপরও বেজায় ক্ষুব্ধ বাবরির মামলকারী। আনসারি বলেন, অযোধ্যার মানুষ কি তিরিশ কিলোমিটার দূরের মসজিদে নমাজ পড়তে যাবে? 

২০১১- র জনগণনা অনুযায়ী অযোধ্যার লাখ পঁচিশ বাসিন্দার ৮৪ শতাংশ হিন্দু। ১৪ শতাংশের সামান্য বেশি হল মুসলিমরা। রাম মন্দির যেখানে তৈরি হচ্ছে তার থেকে ঢিল ছোড়া দূরে রয়েছে অন্তত গোটা আট মসজিদ। বাবরি মসজিদে নমাজ পাঠ ১৯৪৯ এর ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ ছিল। মুসলিমরা প্রার্থনার জন্য যান বাকি মসজিদগুলিতে। নামাজের আজান এবং রাম সঙ্গীত একই সঙ্গে শুনতে অভ্যস্থ এই শহরের মানুষ। এই শহরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদের নজির স্মরণ কালের মধ্যে নেই। এমনকী বাবরি মসজিদ ভাঙার আগে পরেও নয়। গোলমাল, মন্দির-মসজিদ সবই বহিরাগতদের কাজ একবাক্যে বলেন অযোধ্যার সব সম্প্রদায়ের মানুষ। রাম মন্দির উদ্বোধন ঘিরে শহর জুড়ে চলা ভান্ডারাগুলিতে স্থানীয় মুসলিমরাও নানাভাবে অংশ নিচ্ছেন। 

মন্দির-মসজিদ বিবাদ ঘিরে কোনও বিবাদেই এই মহল্লার মানুষ জড়ায়নি। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯২ এর ৬ ডিসেম্বর। বহিরাগতদের হুমকির মুখে প্রতিবেশী হিন্দুদের সহায়তায় অনেক পরিবার দিন কয়েকের জন্য অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাবরি ধ্বংসের দিন হামলা হয়েছিল কিছু বাড়িতে। সবই করেছিল বাইরে থেকে আসা লোকেরা। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আবার আহত করসেবকদের শুশ্রুষা করেছে মুসলিম মহল্লা। 

আনসারির কথায়, 'অযোধ্যা আছে অযোধ্যাতেই। মন্দির নির্মাণ নিয়ে মুসলিম সমাজের কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই। আক্ষেপ বিকল্প মসজিদ অযোধ্যা নগরীতে স্থান না পাওয়ায়। সে জন্য মসজিদ কমিটির উপর ক্ষুব্ধ এই মামলাকারী। নতুন মসজিদ নিয়ে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর কথায়, অযোধ্যায় একটি মসজিদ নিয়ে বিবাদ ছিল। সেটা মিটে গিয়েছে


```