
সূর্যের চাইতে অনেকটাই শীতল এক বামন নক্ষত্রকে ঘিরে পাক খেয়ে চলেছে এই গ্রহ।
শেষ আপডেট: 16 May 2024 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়তনে পৃথিবীর মত। বেশি নয়, রয়েছে মাত্র ৫৫ আলোকবর্ষ দূরে! কিন্তু অদ্ভুত সেই গ্রহ! তার একদিকে কখনও সূর্য ওঠে না। অন্যদিকে কখনও সূর্য অস্তও যায় না!
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে 'টাইডালি লকড'। যখন কোনও গ্রহ বা উপগ্রহ কোনও নক্ষত্র বা কোনও গ্রহকে ঘিরে পাক খায়, তখন সাধারণত তার দু'রকম গতি থাকে। একটা তার নিজের অক্ষরেখার চারপাশে ঘোরার গতি, যাকে বলে আহ্নিক গতি। আরেকটি তার গ্রহ বা নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরার গতি বা বার্ষিক গতি। 'টাইডালি লকড' থাকা মানে এমন একটা অবস্থায় আসা, যখন সেই পাক খেতে থাকা গ্রহ বা উপগ্রহের আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি একই হয়। অর্থাৎ, যদি পৃথিবীর সূর্যের চারপাশে একবার পাক খেতে যা সময় লাগত (এক বছর), সেটাই যদি পৃথিবীর একটা গোটা দিনের সময় হত, তাহলে বলা যেত 'সূর্য ও পৃথিবী পরস্পর টাইডালি লকড'।
ভাগ্যিস তা নয়। সেটা হলে কী হত ভাবতে পারছেন? পৃথিবীর একটা গোলার্ধে কোনওদিন রাত নামত না, অপর গোলার্ধে কোনওদিন সূর্য উঠত না। কিন্তু শুনতে যতটা জটিল লাগছে, 'টাইডালি লকড' কিন্তু আদৌ তেমন জটিল কিছু নয়। বরং সৌরজগতের প্রায় বড় বড় সব চাঁদই তাদের গ্রহদের সঙ্গে টাইডালি লকড অবস্থায় পাক খায়। যার মধ্যে রয়েছে আমাদের চাঁদমামাও। অর্থাৎ, শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আমরা সারা জীবন আকাশে চাঁদের কেবল একটি গোলার্ধকেই দেখে যাই। উল্টোদিক আমরা কোনওদিন দেখতে পাবো না। যাকে বলে 'লুনার ফার সাইড'। নাসা, ইসরো-সহ একাধিক সংস্থা সেইজন্য ওই 'ফার সাইডে' কী আছে জানার জন্য একের পর এক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অতি সম্প্রতি সৌরজগতের খুব কাছেই একটি নক্ষত্রের চারপাশে পাক খেতে থাকা একটি গ্রহের সন্ধান মিলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশিষ্ট্যে এই গ্রহটি অনেকটাই পৃথিবীর মত। মাত্র ১৭ ঘন্টায় এটি একটি অতিশীতল বামন নক্ষত্র 'SPECULOOS-3B'-এর চারপাশে পাক খেয়ে চলেছে। অতিশীতল মানে কিন্তু বরফে ঢাকা নয়। বরং বলা যায়, সূর্যের থেকে আকারে ও তাপমাত্রায় অনেকটাই খাটো এক নক্ষত্র, যা আয়তনে সূর্যের দশভাগের একভাগ মাত্র, যার পৃষ্ঠের তাপমাত্রাও মেরেকেটে আড়াই হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি! যার ফলে এর ঔজ্জ্বল্যও অনেকটাই কম। এই কম ঔজ্জ্বল্যের জন্য অনেক সময় টেলিস্কোপে ধরাও পড়ে না।
'নেচার অ্যাস্ট্রোনমি' পত্রিকায় প্রকাশিত এই সম্পর্কিত গবেষণার লেখক, বিজ্ঞানী মাইকেল গিলন জানিয়েছেন, 'SPECULOOS-3B আয়তনে আমাদের গ্রহের মতোই। আমাদের মনে হয় এই গ্রহটি টাইড্যালি লকড, যার ফলে একটা গোলার্ধই সর্বক্ষণ নক্ষত্রের দিকে থাকে।' জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে আগত তথ্য বিশ্লেষণ করে লিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের চেষ্টায় শেষ অবধি গ্রহটির অস্তিত্ব জানা সম্ভব হয়েছে। এই কাজের জন্য বিশেষ ভাবে বানানো হয়েছিল 'SPECULOOS' (সার্চ ফর প্ল্যানেটস এক্লিপসিং আলট্রা-কুল স্টারস) প্রকল্প। যার একটি প্রোটোটাইপে ধরা পড়েছিল TRAPPIST-1 নক্ষত্র। যাতে রয়েছে সাতটি পৃথিবীর আয়তনের গ্রহ।
তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এখনও অবধি এই গ্রহে প্রাণ থাকার তেমন সম্ভাবনা নেই। নক্ষত্রের লাগামছাড়া বিকিরণে বায়ুমণ্ডল বলে প্রায় কিছুই নেই। তবে সমীক্ষা করলে এই গ্রহের মত অন্য কোনও গ্রহ রয়েছে কিনা এবং সেখানে প্রাণ থাকা সম্ভব কিনা, সেই সম্পর্কে দিশা মিলতেই পারে।