বহু গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন স্ত্রী সাপের গোপনাঙ্গে রয়েছে মানুষের মতোই ক্লিটোরিস। এতদিন একে ঘ্রাণগ্রন্থি বলে মনে করা হত। জেনে নিন এই যুগান্তকারী গবেষণার বিস্তারিত।

স্ত্রী সাপ
শেষ আপডেট: 19 October 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজ্ঞানীদের কাছে সাপ সবসময়ই রহস্যময় এক প্রাণী। তাদের বিষ, চলনভঙ্গি, কিংবা চোখের আচরণ, সব কিছুই কৌতূহল জাগায়। কিন্তু এতদিনেও একটা বিষয় ছিল অজানা। তা হল স্ত্রী সাপের যৌনাঙ্গের গঠন। এবার সেই রহস্যের পর্দা সরালেন বিজ্ঞানীরা। বহু গবেষণার পর তারা আবিষ্কার করেছেন স্ত্রী সাপের গোপনাঙ্গে মানুষের মতোই রয়েছে ‘ক্লিটোরিস’, যা এতদিন ভুলবশত ঘ্রাণগ্রন্থি বলে মনে করা হত।
দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ সাপের যৌনাঙ্গ, অর্থাৎ ‘হেমিপেনিস’ নিয়ে বহু গবেষণা হলেও, স্ত্রী সাপের শরীরের এই অংশ নিয়ে তেমন কোনও বিস্তারিত অনুসন্ধান হয়নি। এতদিন পর্যন্ত ধারণা করা হত, স্ত্রী সাপের যৌনাঙ্গে ক্লিটোরিস নেই বা তা বিবর্তনের পথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কেউ কেউ একে ঘ্রাণগ্রন্থি বলেও মনে করতেন।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মেগান ফলওয়েল এই ভুল ধারণা ভেঙে দেন। তাঁর নেতৃত্বে একদল গবেষক বিভিন্ন প্রজাতির স্ত্রী সাপের ওপর গবেষণা চালিয়ে প্রমাণ করেছেন, তাদেরও আছে এক বিশেষ ধরনের ক্লিটোরিস, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেমিক্লিটোরিস’।
ফলওয়েল জানিয়েছেন, “স্ত্রী সাপের ক্লিটোরিসের গঠন অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এটি দু'টি অংশে বিভক্ত। হেমিক্লিটোরিস ‘ইরেক্টাইল টিস্যু’ দিয়ে তৈরি, যা নির্দিষ্ট স্নায়ুর সঙ্গে সংযুক্ত।”
গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঙ্গটির উপস্থিতি শুধু জৈবিক নয়, বরং সঙ্গমের সময় স্ত্রী সাপের শরীরে একটি বিশেষ উদ্দীপনা সংকেত পাঠায়। এতে অঙ্গটি সামান্য শিথিল ও তৈলাক্ত হয়ে যায়, ফলে সঙ্গমের সময় পুরুষ সাপের হেমিপেনিসের কাঁটা থেকে স্ত্রী সাপ আঘাত থেকে বাঁচে।
ফলওয়েল আরও বলেন, “এই ক্লিটোরিসের খোঁজ প্রথমে পাওয়া যায় এক বিষাক্ত প্রজাতির সাপে, ‘ডেথ অ্যাডার’-এ। সেখানে এটি ত্রিভুজাকৃতির ছিল। ভাগ্য ভাল যে আমি তা দেখতে পেয়েছিলাম। কারণ ওই প্রজাতির ক্ষেত্রে ক্লিটোরিস তুলনামূলকভাবে বড়।”
সহগবেষক ড. জেনা ক্রো-রিডেল জানিয়েছেন, কিছু প্রজাতির স্ত্রী সাপের ক্লিটোরিস আকারে তুলনামূলকভাবে বড় এবং পেশীবহুল, যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিলিমিটার থেকে সাত মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এই আবিষ্কার শুধু সাপের শরীরবৃত্ত নয়, তাদের যৌন আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাপের মিলনের ধরন বেশিরভাগ সময় পুরুষ সাপের আগ্রাসনের উপর নির্ভরশীল। স্ত্রী সাপ সেখানে অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে।