গরুর ঢেকুরেই বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা! আপনি জানতেন?
.jpeg.webp)
গরুর ঢেকুর, বিশ্বের বিপদ!
শেষ আপডেট: 15 October 2025 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে একটা অবলা প্রাণী! শুনে চমকে উঠলেন তো? আপনার আশেপাশে ঘুরে বেরানো গরুরাই বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। ব্যাপারটা খোলসা করে বলা যাক। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এতদিন আমরা মূলত শিল্প দূষণ বা যানবাহনকে দায়ী করে এসেছি। কিন্তু জানেন কি, এই তালিকায় এবার অপ্রত্যাশিতভাবে নাম লিখিয়েছে আমাদের অতি পরিচিত প্রাণী গরু?
গরুর ঢেকুর, বিশ্বের বিপদ!
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গরুর পেট থেকে নির্গত বিষাক্ত মিথেন গ্যাস গ্রিনহাউস গ্যাসের একটি অন্যতম উৎস, যা পৃথিবীর উষ্ণতা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। একটি গরু বছরে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাস ছাড়ে, তা একটি গাড়ির এক বছরের কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের সমান— কিন্তু মিথেন ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর। এই সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা কী কী প্রতিষেধক খুঁজছেন, সেই বিষয়ে রইল বিস্তারিত তথ্য।

বিশ্ব উষ্ণায়নে গরুর ভূমিকাটা ঠিক কী?
বিজ্ঞানীদের মতে, গরুর পরিপাকতন্ত্র থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। মিথেন একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্রিনহাউস গ্যাস, যা কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর বলে বিবেচিত।
গাড়ির চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর!
নাসার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি গরু তার ফুসফুস থেকে সারা বছরে ৮০ থেকে ১২০ কেজি মিথেন নির্গত করে। এই পরিমাণ মিথেন একটি গাড়ি থেকে সারা বছর ধরে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান। যদিও গাড়ি থেকেও দূষণ ঘটে, তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য মিথেন গ্যাসই বেশি দায়ী।
শুধু কি গরুই দায়ী? না। শুধুমাত্র গরুই মিথেন গ্যাস ছাড়ে না। ছোট তিমি থেকে শুরু করে অন্যান্য বড় প্রাণীদের খাদ্য হজম প্রক্রিয়াতেও মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে গরুই।

গরুর ঢেকুরকে কম ক্ষতিকর করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা বর্তমানে নিশ্চিত প্রতিষেধক খুঁজতে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেক গবেষণা ২০১৮ সাল থেকেই চলছে।
নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা গরুকে একটি বিশেষ ধরনের ভ্যাকসিন দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন যে এটি মিথেন উৎপাদন কমাতে পারে কিনা। কিন্তু এই পরীক্ষা সফল হয়নি। দেখা গিয়েছিল যে ভ্যাকসিনের প্রভাবে গরুর দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
'প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স'-এর গবেষণা অনুসারে, গরু থেকে যাতে কম মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, তার জন্য নাইট্রোঅক্সিপ্রোপ্যানাল (Nitrooxypropanal) এবং আয়নোফোরস (Ionophores)-এর মতো বিভিন্ন ধরণের ইনজেকশন বা ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের এই বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক দাবি, গরুকে প্রোবায়োটিক (Probiotic) জাতীয় খাদ্য খাওয়ানো হলে মিথেন গ্যাস কম বের হয়। তবে এই সমস্ত দাবি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে গরুর অন্ত্রে যে ব্যাকটেরিয়া খাবার হজম করতে সাহায্য করে, তাকে কমানোর জন্য ভ্যাকসিন, ওষুধ বা অন্য কোনও ধরনের খাবার দেওয়া হলে তাদের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।