Borrelia ব্যাকটেরিয়া সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। মৌমাছির বিষ, বিশেষ করে এতে থাকা মেলিটিন এই চিকিৎসায় কার্যকর বলে মনে হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 21 June 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী তথা বিখ্যাত ভারতীয় শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের পোলো খেলার মাঠে আকস্মিক মৃত্যু হয়। জানা গেছে, মৌমাছি গলায় আটকে এবং তার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৌমাছির কামড়ে মৃত্যুর এই ঘটনা যখন শিরোনামে, এর আরও এক অন্য খবরও জেনে নেওয়া যাক।
এটি আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগেকার ঘটনা। আমেরিকার বাসিন্দা এলি লোবেলের বয়স তখন মাত্র ২৭, তিনি আক্রান্ত হন লাইম রোগে (Lyme Disease)। লাইম রোগ হয় Borrelia burgdorferi নামের এক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা, যা ছারপোকা জাতীয় পোকার কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। প্রতিবছর শুধুমাত্র আমেরিকাতেই এই রোগে আক্রান্ত হন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। সময়মতো ধরা পড়লে সাধারণত এটি সহজেই অ্যান্টিবায়োটিকে সেরে ওঠে।
কিন্তু ১৯৯৬ সালে এলি বুঝতেই পারেননি, তাঁর শরীরে যে গোলাকার লাল দাগ হয়েছিল, তা লাইম রোগের বিশেষ চিহ্ন। ভেবেছিলেন কোনও মাকড়সা কামড়েছে। এরপর শুরু হয় জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা আর অসহ্য দুর্বলতা।
প্রথম ডাক্তারের দাবি ছিল, এটা সামান্য ভাইরাল জ্বর। দ্বিতীয় জনও একই কথা বললেন। একে একে বহু ডাক্তার দেখালেও, সবার মত ছিল বিভিন্ন। কেউ বললেন মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, কেউ লুপাস, কেউ রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, আবার কেউ ফাইব্রোমায়ালজিয়া।
এক বছরের বেশি সময় পরে যখন লাইম রোগ ধরা পড়ে, তিনি ধীরে ধীরে বিছানাবন্দি হয়ে পড়েন। হুইলচেয়ারে বসে থাকতেন, কথা স্পষ্ট মনে থাকত না। সামান্য একটু ভাল হলেও, তারপর আবার রিল্যাপস করত সমস্যা।
১৫ বছর পর, তিনি যখন ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুর জন্য অপেক্ষায়, তখন এক বিকেলে ঘুরতে বেরিয়ে একদিন তিনি একঝাঁক মৌমাছির কামড়ে আক্রান্ত হন। এলির ছোটবেলা থেকেই মৌমাছির কামড়ে এলার্জি রয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর, তাঁর কোনও এলার্জিক রিঅ্যাকশন তো দূরের কথা, আস্তে আস্তে লাইমের সমস্যার উপসর্গও কমতে শুরু করে।
তারপর থেকে সপ্তাহে তিনদিন, দিনে ১০বার তিনি ঘরোয়া উপায়ে মৌমাছির কামড়ের চিকিৎসা শুরু করেন। টানা তিন বছর চালানোর, কয়েক হাজার হুল ফোটানোর পর এলির সমস্ত সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়। আজও, তিনি বছরে বড়জোর ২-৩ বার মৌমাছির কামড়ের এই ‘চিকিৎসা’ ব্যবহার করেন, তাও জরুরি প্রয়োজনে।
এলি এখন কাজ করছেন একটি বিশেষ ফার্মের সঙ্গে, যারা ‘ইলেকট্রিক গ্লাস প্লেট’ ব্যবহার করে মৌমাছির বিষ সংগ্রহ করে, মৌমাছিকে ক্ষতি না করেই। এই বিষ পাঠানো হয় ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হেভেন-এর গবেষক ইভা স্যাপির (Eva Sapi) কাছে। তিনি লাইম রোগ ও Borrelia ব্যাকটেরিয়ার উপর দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন।
স্যাপির মতে, Borrelia ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন রূপ থাকে, যেগুলো সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। মৌমাছির বিষ, বিশেষ করে এতে থাকা মেলিটিন এই চিকিৎসায় কার্যকর বলে মনে হচ্ছে।
মেলিটিনের কাজ, কোশের গায়ে ছিদ্র করে সেই কোশ মারা ফেলা। এই কারণেই এটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক স্টাডিতে দেখা যায়, এইচআইভি ভাইরাসের বাইরের আবরণ ছিঁড়ে ফেলে মেলিটিন, তাও কোনও মানব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত না করেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এখনও অনেক গবেষণা বাকি। আমরা প্রাণীদেহে পরীক্ষার আগেও পৌঁছাইনি। এটা এখনও ‘ভেনম’।’
কিন্তু বিশ্বজুড়ে গবেষকরা আজ বলছেন, যেটা আমরা বিষ বলে জানি, সেটাই ভবিষ্যতের চিকিৎসার এক সম্ভাবনাময় উৎস। মেলিটিন শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, এইচআইভি, ক্যানসার, আর্থ্রাইটিস, এমনকী মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর বিরুদ্ধেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।