
সৌরঝড় আছড়ে পড়েছে, আকাশে অভিনব মেরুজ্যোতি।
শেষ আপডেট: 11 May 2024 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিন ধরেই সূর্যে উথালপাথাল পরিস্থিতি। সৌরঝড় নিয়ে আগেও সতর্ক করেছে নাসা। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সেই সতর্কবার্তা সত্যি করে পৃথিবীর গায়ে এসে লাগল সৌরঝড়ের ধাক্কা। সূর্যের পিঠে ২ লক্ষ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সৌরকলঙ্ক ধরা পড়েছে। এত বিশাল সানস্পট দেখে চিন্তায় ছিলেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা বলেছিলেন, প্রলয় ঝড় উঠেছে সূর্যে। সূর্যের করোনা অশান্ত। সেখান থেকে প্রবল গতিতে সৌররশ্মি ছিটকে বেরিয়ে আসছে। সৌরঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে পৃথিবীতে। তাই হয়েছে। শুক্রবার সৌরঝড়ের প্রভাবে দেশে দেশে দেখা গেছে বিরল মেরুজ্যোতি। লাদাখের আকাশ ভরে গেছে লাল-নীল-সবুজ-কমলা আলোতে।
পৃথিবীর উপরেও সম্প্রতি সৌরঝড়ের প্রভাব পড়েছে। সূর্যের ঝড়ের ফলে বিচ্ছুরিত সৌরপদার্থের ধাক্কা এসে লেগেছে পৃথিবীর চৌম্বকীয় তরঙ্গে। যার ফলে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার তরফে জানানো হয়েছে, সৌরঝড়ের ধাক্কায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় তরঙ্গে ঝড় উঠেছে। এই ঝড়ের ফলে পৃথিবীর বুকে একাধিক দেশের আকাশে দেখা গিয়েছে অভিনব মেরুজ্যোতি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শুক্রবার রাতে আকাশে মেরুজ্যোতির ছটা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মহাজাগতিক আলোয় ছেয়ে গিয়েছিল আকাশের একাংশ। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের আকাশে এই মেরুজ্যোতির ঝলক দেখা গিয়েছে।
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বিজ্ঞানীরা বলছেন, লাদাখে প্যাংগং হ্রদের তীরে মেরাকের আকাশ রঙিন আলোর ছটায় ভরে উঠেছে। তবে শুধু লাদাখ নয়, ইদানীং কালে পৃথিবীর নানা প্রান্তেই এমন আলোর ছটা চোখে পড়েছে আকাশে। তবে লাদাখে তার আবির্ভাব বিরল। গত বছরও লাদাখের আকাশে মেরুপ্রভা দেখা গিয়েছিল।
সৌরঝড়ের অভিঘাতে গোটা বিশ্বের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ধরনের সৌরঝড়কে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)’। একাধিক মাঝারি মাত্রার সিএমই মিলে গিয়ে গোটা সৌরমণ্ডলের পক্ষেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। সিএমই এবং পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ঘটিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে জিপিএস যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট যোগাযোগে।