
মাউন্ট এভারেস্ট
শেষ আপডেট: 2 October 2024 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট ২৯,০৩১.৬৯ ফুট উঁচু। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত। তবে এবার এই উচ্চতা দিনের পর দিন একটু করে বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, এভারেস্টের উচ্চতা ১৬৪ ফুট বেড়ে গিয়েছে। কারণ কী?
বিজ্ঞানীরা এর কারণ হিসেবে একটি নদীকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, হিমালয়ের একটি নদী বাড়িয়ে দিচ্ছে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা। নতুন সমীক্ষা অনুসারে, এই নদীটি এভারেস্ট থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা ৮৯ হাজার বছর আগে অন্য একটি নদীতে গিয়ে মিশেছিল।
তারপরে বিভিন্ন কারণের জন্য নদীতে ভাঙন ধরে। অর্থাৎ মাটি খসে পড়তে থাকে। যার ফলে সেখানে একটি বড় গভীর উপত্যকা তৈরি হয়েছে। একারণে সেখানকার একটি বিশাল জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই জায়গায় পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণা বলছে, অরুণ নদী তিব্বত থেকে সোজা নেমে আসে নেপালে। আরও দুটি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ওই নদীটির নাম হয় কোশী। এই কোশী নদীই নেপাল থেকে উত্তর ভারতে প্রবেশ করেছে, যা পরে আবার গঙ্গায় মিশেছে।
খাড়া পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে অরুণ নদী প্রচণ্ড স্রোতে নেমে আসার ফলে নদীটির পলিমাটি কেটে নিয়ে আসার ক্ষমতাও খুব বেশি। সেই কারণেই নদীটির যাত্রাপথে প্রচুর পরিমাণে পাথর আর মাটি বয়ে এনেছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের বিজ্ঞানী অ্যাডাম স্মিথ বলেন, 'এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সাধারণত, হিমালয়ের বেশিরভাগ পর্বতমালার উচ্চতার মধ্যে ১৬৪ থেকে ৩২৮ ফুটের পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এভারেস্ট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে২ থেকে ৮২০ ফুট উঁচু। তার মানে সেখানে আশ্চর্যজনক কিছু ঘটেছে। যা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।'
ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভারেস্ট থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরের এই অরুণ নদীর অববাহিকার ভূমি-ক্ষয়ই প্রতিবছর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা দু'মিলিমিটার করে বাড়াচ্ছে।
অ্যাডাম স্মিথের কথায়, 'এটা অনেকটা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালপত্র ফেলে দেওয়ার মতো ব্যাপার। জাহাজ থেকে পণ্য ফেলে দেওয়ার পরে জাহাজটি যেমন খানিকটা ওপরে ভেসে ওঠে, তেমনই ভূমির ক্ষরণ হলে পর্বতশৃঙ্গটিও কিছুটা ওপরে উঠে যায়।'
হিমালয়ের ভৌগোলিক ইতিহাস বলছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি বছর আগে ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের মধ্যে ধাক্কার অভিঘাতে হিমালয়ের জন্ম হয়েছিল। সেই দুটি প্লেটের ঘাত-অভিঘাতের কারণে এখনও হিমালয়ের উচ্চতা বেড়ে চলেছে বলেও একটি তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে।
কিন্তু ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডন বা ইউসিএলের বিজ্ঞানীরা এবার এই উচ্চতা বাড়ার আরও একটা কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন অরুণ নদীতে ঘটে যাওয়া ভূ-বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনগুলি। এই প্রক্রিয়াটিকে ভূবিজ্ঞানের তত্ত্বে আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড বলা হয়ে থাকে।
নেচার জিওসায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত তাদের গবেষণাপত্রটিতে আরও বলা হয়েছে, এই ভূবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফলে কেবল এভারেস্ট নয়, আশপাশের অন্য পর্বতশৃঙ্গগুলিও ওপরের দিকে উঠছে। তাই এভারেস্ট ছাড়াও বিশ্বের চতুর্থ ও পঞ্চম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লোৎসে এবং মাকালুর উচ্চতাও বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কয়েকজন ভূবিজ্ঞানী বলছেন যে, এই তত্ত্বটি বিশ্বাসযোগ্য ঠিকই, কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।