গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের মস্তিষ্কের ক্ষয় তুলনামূলকভাবে ধীর, যদিও মহিলাদের অ্যালজাইমার্সে (Alzheimer's) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ।

শেষ আপডেট: 19 October 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুষ আর নারী মস্তিষ্কের (male and female brain differences) তফাত নিয়ে বরাবর নানা গবেষণা (brain study) হয়ে আসছে। কীভাবে তারা কাজ করে, তাদের ভাবনাচিন্তায় মস্তিষ্কের কোন অংশ কীভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে বেশ কৌতূহল রয়েছে মানুষের মনে। পুরুষ ও নারী মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন গবেষণায় (recent male and female brain study) উঠে এল আরও এক তথ্য।
নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণা বলছে, একই বয়স হলেও পুরুষদের মস্তিষ্ক মহিলাদের তুলনায় দ্রুত সঙ্কুচিত (brain shrinkage in men with age) হয়। গবেষকরা প্রায় ৪,৭২৬ জন সুস্থ মানুষের ব্রেন স্ক্যান বিশ্লেষণ (brain scan study) করে দেখেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষয়ের হার পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি।
প্রাকৃতিকভাবেই বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের আয়তন কিছুটা কমে। অ্যালজাইমার্স আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ক্ষয় আরও দ্রুত ঘটে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের মস্তিষ্কের ক্ষয় তুলনামূলকভাবে ধীর, যদিও মহিলাদের অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ।
গবেষণার সহলেখক অ্যান র্যাভনডাল, যিনি নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অফ অসলো-র নিউরোসায়েন্টিস্ট, জানিয়েছেন, “যদি মহিলাদের মস্তিষ্ক বেশি সঙ্কুচিত হত, তবে হয়তো অ্যালজাইমার্সের প্রবণতা ব্যাখ্যা করা সহজ হত।”
গবেষকরা ১৭ থেকে ৯৫ বছর বয়সি অংশগ্রহণকারীদের ১২ হাজারেরও বেশি ব্রেন স্ক্যান বিশ্লেষণ করেছেন। প্রত্যেকের অন্তত দুটি এমআরআই ছিল, প্রায় তিন বছরের ব্যবধানে। স্বাভাবিক গঠনগত পার্থক্য হিসাব করে দেখা যায়, পুরুষদের কর্টেক্স-সহ মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলে সঙ্কোচনের হার বেশি।
অন্যদিকে মহিলাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে কম এবং কর্টিকাল পুরুত্বে পরিবর্তনও তেমন দেখা যায়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, লিঙ্গভেদে মস্তিষ্কের বার্ধক্য ভিন্নভাবে ঘটে, যদিও গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন — এই বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মস্তিষ্ক বার্ধক্য নিয়ে পূর্ববর্তী বহু গবেষণাতেই পুরুষ-মহিলার পার্থক্য উপেক্ষিত থেকেছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউরোসায়েন্স ও সাইকিয়াট্রির মাত্র ৫ শতাংশ গবেষণায় লিঙ্গভেদ বিবেচনা করা হয়েছিল। ফলে ফলাফলগুলির মধ্যে একরকম অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
পূর্ববর্তী কিছু গবেষণায় পুরুষদের মস্তিষ্কে বেশি ক্ষয় দেখা গেলেও, কিছুতে মহিলাদের ক্ষেত্রেও তা পাওয়া গিয়েছে। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণা এই অস্পষ্টতা কিছুটা দূর করেছে। এতে মোট ব্রেন ভলিউম, সাবকোরটিকাল ভলিউম, কর্টিকাল পুরুত্ব ও সারফেস এরিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, স্মৃতি ও শিক্ষার জন্য দায়ী হিপোক্যাম্পাস অঞ্চলে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে কোনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষকরা জানাচ্ছেন, নারীদের হিপোক্যাম্পাসের আয়তন বয়সের সঙ্গে কিছুটা দ্রুত কমলেও তা বেশি আয়ুষ্কালের প্রভাব, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি নয়।
গবেষকরা মনে করছেন, লিঙ্গভেদে মস্তিষ্ক বার্ধক্যের প্রভাব জটিল, কারণ এতে জেনেটিক ও পরিবেশগত দুই ফ্যাক্টরই কাজ করে। ২০২৩ সালের এক সমীক্ষায়ও দেখা গিয়েছে, মস্তিষ্ক বার্ধক্য গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা বৈজ্ঞানিক পক্ষপাত মহিলাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গবেষণার উপসংহার বলছে, গড় আয়ুর পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে গেলে, কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মস্তিষ্ক ক্ষয়ের পার্থক্য সেভাবে স্পষ্ট নয়। তাই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, বয়স্ক মহিলাদের মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে আরও গভীর গবেষণা জরুরি।