‘চার চাঁদের’ দৃশ্য মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতি কখনও কখনও বিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই এমন সব দৃশ্য তৈরি করে, যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে রীতিমতো অলৌকিক বলে।

শেষ আপডেট: 2 February 2026 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরল এক মহাজাগতিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ। শহরের আকাশে আচমকাই উদয় হল একসঙ্গে চারটি চাঁদ - এমনই এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন স্থানীয় আকাশপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ (Four moons in St Petersburg)।
এই বিরল ঘটনাটি আসলে একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা আলোক-ভ্রম, যার বৈজ্ঞানিক নাম পারাসেলিনি (Paraselenae)। রবিবার এই দৃশ্য (Russia sky phenomenon) ধরা পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তার একাধিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিগুলিতে দেখা যায়, পৃথিবীর উপগ্রহটির দু’পাশে আরও উজ্জ্বল আলোর বিন্দু - যেন আকাশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক চাঁদ। এই দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল রীতিমতো আলৌকিক ও মোহময়।
কী এই পারাসেলিনি বা ‘মুন ডগ’?
পারাসেলিনিকে সাধারণভাবে বলা হয় মুন ডগ (Moon Dog) বা মক মুন (Mock Moon)। এটি তৈরি হয় তখনই, যখন আকাশের উঁচু স্তরে থাকা পাতলা, ষড়ভুজাকৃতি, প্লেটের মতো বরফ কণার মধ্য আসার সময় চাঁদের আলো ভেঙে যায় (refract)। এই বরফ কণাগুলি সাধারণত থাকে উচ্চ স্তরের সিরাস (Cirrus) কিংবা সিরোস্ট্র্যাটাস (Cirrostratus) মেঘে।
এই বিশেষ পরিস্থিতিতে চাঁদের দু’পাশে উজ্জ্বল আলোর দাগ বা “নকল চাঁদ” দেখা যায়। অর্থাৎ, এটি কোনও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, পুরোটাই বায়ুমণ্ডলীয় আলোক-প্রতিসরণের ফল।
Four moons appear over Russia’s St. Petersburg
The spectacle, known as a paraselene, was created by moonlight bending through ice crystals in the frosty atmosphere pic.twitter.com/J5C5h4uDx8— RT (@RT_com) February 1, 2026
নাসার ব্যাখ্যা কী বলছে?
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পারাসেলিনি সাধারণত চাঁদ থেকে প্রায় ২২ ডিগ্রি বা তারও বেশি কোণে দেখা যায়। আসল চাঁদের উজ্জ্বল চাকতির তুলনায় এই নকল চাঁদগুলি বেশ ফিকে হয়। চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি থাকে, তখনই এগুলি তুলনামূলকভাবে সহজে চোখে পড়ে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পারাসেলিনিগুলি আকাশে ঠিক সেই উচ্চতাতেই অবস্থান করে, যে উচ্চতায় থাকে প্রকৃত চাঁদ। অর্থাৎ, দিগন্তের উপরে চাঁদ যতটা উঁচুতে থাকে, এই আলোর বিন্দুগুলিও থাকে প্রায় সেই একই সমতলে।
বরফ কণার আকারের উপরই নির্ভর করে ‘চার চাঁদের’ উচ্চতা
Skybrary-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আলোক-ভ্রমের উচ্চতা নির্ভর করে বরফ কণাগুলির নড়াচড়ার উপর। বরফ কণা যত বড় হয়, পারাসেলিনির উচ্চতাও তত বেশি হয়। অর্থাৎ, আকাশে দেখা যাওয়া এই নকল চাঁদগুলির আকৃতি ও বিস্তার মূলত নির্ভর করে মেঘের মধ্যে থাকা বরফের ক্রিস্টালের গঠন ও আচরণের উপরেই।
বিজ্ঞান আর সৌন্দর্যের মেলবন্ধন
সেন্ট পিটার্সবার্গের আকাশে দেখা এই ‘চার চাঁদের’ দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতি কখনও কখনও বিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই এমন সব দৃশ্য তৈরি করে, যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে রীতিমতো অলৌকিক বলে। একদিকে নিখুঁত পদার্থবিদ্যা, অন্যদিকে আকাশের ক্যানভাসে আঁকা যেন এক অপূর্ব শিল্প, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই জন্ম নেয় পারাসেলিনির মতো বিরল মুহূর্ত।