
শেষ আপডেট: 11 July 2023 07:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চের গোড়ায় ডাকযোগে ২৫ লাখ টাকা জিএসটি অবিলম্বে জমা করার নোটিস আসে (Unemployed man got 25 lakhs GST notice)। বছর বাইশের তরুণ দেবেন্দ্র কুমার নোটিসটি পেয়ে চমকে উঠেছিলেন। কিন্তু তেমন একটা গুরুত্ব দেননি। যদিও নোটিসে উল্লেখ করা ছিল তাঁর যে ব্যবসায় এক কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, সেটির কর বাবদ এই টাকা জমা করতে হবে।
তাতে জানানো হয়, তাঁর নামে দ্বিতীয় একটি ব্যবসা রয়েছে যেটিতে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু শুরু থেকে সেটির জন্য কর মেটাননি। তিনি যেন অবিলম্বে জিএসটি (Goods and Services Tax) কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন।
এবার টনক নড়ে দেবেন্দ্রর। বুঝতে পারে নোটিসগুলি উপেক্ষা করলে সমস্যা বাড়তে পারে। কিন্তু জিএসটি কমিশনারের অফিসের সন্ধান না পেয়ে তিনি যান স্থানীয় থানায়। পুলিশকে সব কিছু বলার পর তারা বলে এই ব্যাপারে থানায় অভিযোগ নিতে হলে উচ্চমহলের অনুমতি দরকার। থানার পরামর্শে দেবেন্দ্র ছোটেন পুলিশ সুপারের অফিসে। তার আগে নিচুতলার আরও এক-দু’জন পুলিশকর্তার দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁরাও কোনও সমাধান সূত্র দিতে পারেননি।
এদিকে, পুলিশ সুপারের দেখা পেতে পকেট খালি হওয়ার জোগার। এপ্রিল মাস থেকে জিএসটির নোটিস দুটি হাতে নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান সেই তরুণ। তাঁর ধারণা, এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র আছে। এখনই বিহিত না করলে বিপদ বাড়তে পারে তাঁর। কিন্তু তাঁর কথা শুনবে কে?
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের। দেবেন্দ্রকে এ জন্য একাধিকবার ছুটতে হয়েছে গাজিয়াবাদ, নয়ডাতেও। কারণ ব্যবসার ঠিকানা হিসাবে ওই দুই শহরের উল্লেখ ছিল। শেষে গত শনিবার নয়ডা থানা তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করে প্রতারণার ধারায় মামলা শুরু করেছে। যদিও এতদিনের ছোটাছুটির গাড়ি ভাড়া, হোটেলে রাত্রিবাসের ফলে তাঁর হাজার চল্লিশ টাকা খসে গিয়েছে। কোনওরকমে ধারকর্জ করে চালিয়েছেন।
বুলন্দশহরের দেবেন্দ্রর অভিযোগ কেন নয়ডা থানা নিল? আসলে দেবেন্দ্রের ধারণা, গোটা ঘটনার পিছনে আছে নয়ডার এক ঠিকাদার। যার অধীনে সে একটা সময় কাজ করত। তখন প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি-সহ ব্যক্তিগত অনেক নথি ঠিকাদার চেয়ে নিয়েছিল। সেই ঠিকাদারই দেবেন্দ্রের নামে কারবার খুলে জিএসটি ফাঁকি দিয়েছে বলে দেবেন্দ্র নয়ডা থানাকে জানাতে থানেদারের তা মনে ধরে। তদন্ত শুরু হয়েছে।