
শেষ আপডেট: 29 May 2023 06:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছিল আগেই। তারপরেই 'দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্টবেঙ্গল' (The Diary of West Bengal) ছবির পরিচালক সনোজ মিশ্রকে (Sanoj Mishra) থানায় তলব করেছিল কলকাতা পুলিশ। বাংলার ভাবমূর্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সনোজ মিশ্রই এবার থানায় হাজিরা দিতে যাওয়ার আগে খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন। তাঁর ভয়, কলকাতা এলেই হয়তো শেষ হয়ে যাবেন তিনি।

জানা গেছে,গত ১১ মে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। আগামী ৩০ মে-এর মধ্যে থানায় তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তলবের জবাব দেননি সনোজ। তাঁর আশঙ্কা, কলকাতায় এলেই হয়তো খুন হয়ে যেতে হবে তাঁকে।
এর আগেই ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (The Kerala Story) প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য তা খারিজ করে দিয়েছিল। তবে যেদিন এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন সেদিন তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কিছু ভাড়া করা লোককে বিজেপি নিয়ে আসছে। আর বলছে বেঙ্গল স্টোরি বানাবে।’ তারপরেই শুক্রবার সনোজ মিশ্র পরিচালিত ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্টবেঙ্গল’-এর ট্রেলার প্রকাশ পায়। তারপরেই থানায় তলব করা হয় পরিচালককে।
জানা গিয়েছে, বেঙ্গল ডায়েরির পরিচালককে আইপিসি-র ৪১/এ ধারায় তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। আরও বেশ কিছু ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ছবির কাহিনি লিখেছেন জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী। যিনি আগে ছিলেন ওয়াসিম রিজওয়াই। উত্তরপ্রদেশের সিয়া ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে ওয়াসিম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী হন।
ট্রেলারে একাধিক বিশেষণে বাংলাকে ভূষিত করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, বাংলা অসংগঠিত হিন্দুদের জন্য দ্বিতীয় কাশ্মীরে পরিণত হয়েছে। এমনকী এও বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের তোয়াজ করায় হিন্দুরা ভিটে ছাড়া হচ্ছেন।
দেখানো হয়েছে, একবার দেশভাগের সময়ে ওপার বাংলা থেকে ভিটে হারিয়ে এপারে এসে হিন্দুরা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছিলেন। ফের তাঁদেরই নতুন করে বাস্তুহারা করা হচ্ছে। সন্দেহ নেই, মেরুকরণকে তীব্র করতেই ছবি নির্মিত হচ্ছে। ট্রেলারে বাংলার নানান প্রান্তের হিংসা, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, অশান্তি ইত্যাদির কোলাজ দেখানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বিজেপি তাদের সিলেবাস অনুযায়ীই বাংলায় এই কাজ করছে। কারণ, এতে ছোটখাটো ঘটনাকে রং চড়িয়ে দেখালে উদ্বাস্তু মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাঁদের আরও বক্তব্য, মোদী-শাহের জমানায় সিনেমার মাধ্যমে মেরুকরণকে তীব্রতর করা কার্যত রুটিনে পরিণত হয়েছে। রাজ্য ধরে সেই কাজ করা হচ্ছে।
মোদীর ‘দিল্লি অর্ডিন্যান্স’, কেজরিওয়ালকে সমর্থনে আপত্তি রাহুল-প্রিয়াঙ্কার, বিপাকে খাড়্গে