
শেষ আপডেট: 28 April 2023 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (Supreme Court order about Abhijit Ganguly) নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই তোলপাড় চলছে বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠেছিল, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কি সব মামলা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে? সুপ্রিম কোর্টের মৌখিক নির্দেশের পরই এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে সন্ধেবেলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি হাইকোর্টে পৌঁছতেই বিষয়টি স্পষ্ট হল। নির্দেশের কপিতে উল্লেখ আছে, সব মামলা নয়, প্রাথমিক নিয়োগ (Primary teacher recruitment) সংক্রান্ত মাত্র দু'টি মামলা সরানো হচ্ছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে।
কোন কোন মামলা থেকে সরতে হচ্ছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে?
নির্দেশের কপিতে উল্লেখ আছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্রান্ত মামলা থাকছে না বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘরে। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের ভিত্তিতে যেসব মামলা বিচারপতির এজলাসে ছিল সেই মামলা সরে যাচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বলেছে, যদি তিনি মনে করেন তো এই সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘর থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, প্রয়োজনে সিবিআই ও ইডি কুন্তল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারবে। সেই নির্দেশের পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
সেই আবেদনের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী, অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেন, তাঁর মক্কেলের নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে কোনও যোগ নেই। কিন্তু তার পরেও সিবিআই-ইডিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। শীর্ষ আদালত, হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। শুক্রবারের নির্দেশের পর অভিষেকের সেই মামলা সরছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে।
সেদিনই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। সেই ব্যাপারে সোমবার প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, কোনও বিচারপতির এজলাসে যে বিষয় নিয়ে মামলা চলছে, সেই বিষয় নিয়ে তিনি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না। তারপরই হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের থেকে ওই সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রিপ্ট চেয়ে পাঠানো হয়।
শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাপারে রায় ঘোষণার সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন,“বিচারপতিরা কঠিন দায়িত্ব পালন করেন। ঠিক যে কারণে আমরা মামলাটি অন্য এজলাসে সরানোর কথা বলেছি।" এই মামলা ছাড়াও প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে কুন্তল ঘোষ সংক্রান্ত আর একটি মামলা শুনতে পারবেন না বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
তবে উচ্চ প্রাথমিক, প্রাথমিক, নবম-দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষিক নিয়োগ ও গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি নিয়োগ সংক্রান্ত যেসব মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই মামলা তাঁর ঘরেই থাকছে আপাতত।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরকাড়া মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ, ফিরে দেখা সেরা ১০