
শেষ আপডেট: 2 July 2023 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহখানেকের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় ঘটনা। রাজধানী দিল্লিতে ফের জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এবার মৃত্যু হয়েছে ১৮ বছরের এক তরুণের। লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালের বেসমেন্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে (Delhi teen electrocuted)।
সূত্রের খবর, প্রবল বৃষ্টির জেরে দিল্লির লোকনাথ জয়প্রকাশ হাসপাতালের বেসমেন্টে জল জমে গিয়েছিল। সেই জমা জলের মধ্যেই পড়েছিল একটি তড়িৎবাহী তার। তার ফলে পুরো হলেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল। যদিও সে কথা জানতেন না ১৮ বছরের ওই তরুণ। হাসপাতালের বেসমেন্টের জলে পা রাখা মাত্রই তড়িৎস্পৃষ্ট হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর।
https://twitter.com/hussainjaved81/status/1675403906694909952?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1675403906694909952%7Ctwgr%5Eb2066299d09b0b69e9a8d685abc8f4566a746960%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.freepressjournal.in%2Findia%2Fdelhi-rains-18-year-old-electrocuted-to-death-in-basement-of-lnjp-hospital-visuals-surface
উল্লেখ্য গত ২৫ জুন নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে একইভাবে তড়িৎস্পৃস্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল সাক্ষী আহুজা নামে এক তরুণীর। পূর্ব দিল্লির প্রীত বিহার এলাকার বাসিন্দা সাক্ষী ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। রবিবার সকালে দিল্লি থেকে সপরিবারে তিনি চণ্ডীগড় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর ন’বছরের ছেলে রাঘব এবং সাত বছরের মেয়ে অনন্যা। তরুণীর বাবা লোকেশ কুমার চোপড়া রেল পরিষেবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ট্রেনে ওঠার আগে পা পিছলে পড়ে যায় মেয়ে। সেই জায়গায় ইলেকট্রিক পোল ছিল। বৃষ্টিতে তারগুলো ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে ছিল। জায়গাটা ভেজা থাকায় ইলেকট্রিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় তাঁর মেয়ে। সাক্ষীর হাত ধরে ছিল তাঁর মেয়ে অনন্যা। সেও পড়ে যায়। ঘটনা দেখে দু’এক জন ছুটে এসে অনন্যাকে ধরে তোলে। কিন্তু সাক্ষীর কাছে যায়নি কেউ। মেয়ে তখন ছটফট করছে।
সাক্ষীর বাবা জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে ঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পারেননি তাঁরা। স্টেশন চত্বর থেকে বেরোতেই কেটে যায় প্রায় ৪০ মিনিট। ততক্ষণে মেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। কোথাও কোনও অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক বা প্রাথমিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত ছিল না। স্টেশনের মুখে এত গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল যে সেখান থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে যেতেই বহু সময় কেটে যায়। মেয়েকে আর বাঁচানো যায়নি।
সেই একই দিন সেই ঘটনার আধঘণ্টা আগে শহরেরই অন্য এলাকায় ১৭ বছর বয়সি আরও এক তরুণের মৃত্যু হয় একইভাবে। জল জমে থাকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয় তাঁর। জানা গিয়েছে, ওই জলের মধ্যে ইলেকট্রিক পোল থেকে বিদ্যুতের তার খুলে পড়েছিল।
সোহেল নামে ওই তরুণ কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হলেও তার আদি বাড়ি বাংলায়। মাসখানেক আগে দক্ষিণ দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে কাকার বাড়িতে ছুটি কাটাতে এসেছিল সে। দিনেরবেলা সে কাকার কাছে থাকত আর রাতে ঘুমানোর জন্য পূর্ব দিল্লির সীমাপুরীতে আর এক আত্মীয় জামালের বাড়িতে যেত। গত শনিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল দিল্লিতে। কিন্তু তার মধ্যেই ওই তরুণ রবিবার ভোরে কাকার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিল।
তখনই ঘটে বিপদ। ভোর ৫টা নাগাদ কাকার বাড়ির কাছেই তৈমুর নগরে পৌঁছে সে দেখে, তার যাওয়ার রাস্তা পুরো জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এরপর সে ওই জমা জলে পা রাখতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় তার। এদিকে সোহেলের চিৎকার শুনে ওই ভোরবেলায় ছুটে আসেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁরা জলের মধ্যে ওই বিদ্যুৎবাহী তার দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
সেখান থেকে সোহেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বারবার একইভাবে এই ঘটনা ঘটনায় স্বভাবতই শহরে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে জমা জলে তড়িৎস্পৃস্ট হয়ে ৩টি মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কলকাতার আবাসনগুলির মানবিক মুখ, পথকুকুরদের জন্য চত্বরের ভিতর ডগ-হাউস বানানো হচ্ছে