গুরু-শিষ্যের এ যেন এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। গুরুর কাছে শিখেছিলেন ধারাবাহিকতা। সেটাই যেন ফিরিয়ে দিচ্ছেন গুরুর জুতোয় পা গলিয়ে। আর ফুটবলপ্রেমীরা পাচ্ছে বিশ্বফুটবলের এক অমূল্য ফ্রেম।
একজন বিশ্বফুটবলের প্রবাদপ্রতিম কোচ মার্সেলো লিপ্পি। অন্যজন তাঁর সুযোগ্য শিষ্য জিনেদিন জিদান। ১৯৯৬ সালে ‘তুরিনের ওল্ড লেডি’দের হয়ে নাম লেখান জিদান। লিপ্পির হাত ধরে জুভেন্টাস তখন ইউরোপের চ্যাম্পিয়ান। পরের দু’বছরেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন লিপ্পি। জুভেন্টাসকে তুলেছিলেন আরও দুই ফাইনালে। তখন তাঁর তুরুপের তাস সাদাকালো স্ট্রাইপের জার্সি নম্বর ১০। শেষবার ফাইনালে উঠেছিলেন রিয়েল মাদ্রিদকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হারিয়ে।
তারপর ২০ বছরের অপেক্ষা। লিপ্পির আদরের জিজু পা গলালেন তাঁর জুতোই। গতকাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বায়ার্ন মিউনিখকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠলো রিয়েল মাদ্রিদ। মাত্র ২৮ মাস কোচিং করাতে এসে এর আগে কোনও কোচের এইরকম সাফল্য আছে কিনা মনে করতে পারছে না ফুটবল মহল।
লিপ্পির ফুটবল দর্শনের সঙ্গে আশ্চর্য মিল জিদানের। লিপ্পির মতোই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলান জিদান। আর তার ফলও হাতেনাতে পাচ্ছেন রোনাল্ডো, র্যামোসরা। তবে কিছু ক্ষেত্রে তো গুরুকেও টেক্কা দিচ্ছেন শিষ্য। লিপ্পি নিজের কোচিংয়ের প্রথম তিন মরশুমেই জিদানের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠতে পারেননি। কিম্বা প্রথমবার জিতলেও পরের দুবার কিন্তু লিপ্পিকে ফাইনালে হারতে হয়েছিল। সেক্ষেত্রে জিদান কিন্তু দুবার ট্রফি জিতেছেন।
জিজুর অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বে কখনও হারেনি রিয়েল মাদ্রিদ। ৯ ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। ১০ এ ১০ করতে গেলে অপেক্ষা করতে হবে ২৬শে মে’র কিয়েভের ফাইনাল পর্যন্ত। লিপ্পি ২ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন। এবার জিতলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসাবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ান হয়ে গুরুকে টেক্কা দেবেন জিদান। অপেক্ষা আর কয়েক দিনের।