মোহনবাগান দিবসে রত্ন সম্মান পেলেন টুটু বোস। পুরস্কার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেললেন তিনি। বললেন, ‘এই সম্মান পেয়ে মনে হচ্ছে হাতে চাঁদ পেলাম।’

আবেগে ভেসে গেলেন টুটু বোস
শেষ আপডেট: 29 July 2025 23:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৯ জুলাই মানেই মোহনবাগানের (Mohunbagan) কাছে বিশেষ দিন। ১৯১১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ক্লাবকে পরাজিত করে প্রথম কোন ভারতীয় দল হিসাবে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। প্রতিবছর এই দিনে পালিত হয়ে থাকে মোহনবাগান দিবস (Mohunbagan Dibas)। এ বছরও কোটা দিন জুড়ে ধুমধাম এর সঙ্গে পালিত হল এই বিশেষ দিন। এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে দেওয়া হয় মোহনবাগান রত্ন-সহ (Mohunbagan Ratna) অন্যান্য পুরস্কার।
মঙ্গলবার মোহনবাগান দিবস অনুষ্ঠানে মোহনবাগান রত্ন পেয়ে চোখের জল আটকে রাখতে পারলেন না টুটু বোস (Tutu Bose)। তিনি বলেন, ' হাতে চাঁদ পেলাম।' আর এই কথা বলার পরেই চোখের জল সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন বাগানের আদরের টুটুদা।
২৯ জুলাই মঙ্গলবার মোহনবাগান তাঁবু ফুল দিয়ে সাজানো হয়। প্রথমেই মোহনবাগান তাঁবুতে অমর একাদশের মূর্তিতে মাল্যদান ও ক্লাবের পতাকা উত্তোলন হয়। দুপুর গড়াতেই মোহনবাগানের বেশ কিছু প্রাক্তন খেলোয়াড়দের নিয়ে সম্প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
মোহনবাগান দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠান নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বোস ও মনোজ তিওয়ারি।
এদিনের অনুষ্ঠানে যেন চাঁদের হাট বসেছিল। বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে অরূপ বিশ্বাস মোহনবাগানের কাছে দুটি অনুরোধ রাখেন। তিনি বলেন, 'এইবারের কণ্যাশ্রী কাপে মোহনবাগান দলকে দেখতে চাই। সেই বুঝে মহিলা দল শুরু কর।' তাঁর দ্বিতীয় অনুরোধটি ছিল, 'এইবারে সব ট্রফি ক্লাবে দেখতে চাই।'
অনেকদিন আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বর্ষসেরা ফুটবলার অপুইয়া। কিন্তু তিনি শহরে থাকা সত্বেও তাঁকে অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে দেখা গেলো না। পরে বাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস জানান, 'বৃহস্পতিবার ম্যাচ থাকার জন্য তাঁকে কোচ অনুমতি দেনানি অনুষ্ঠানে আসার জন্য।'
টুটু বোস এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন, 'মোহনবাগান ক্লাবে কারও ভোটাধিকার ছিল না। হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মামলা লড়েছিলাম। তারপর আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশে মোহনবাগানে নির্বাচন করাই। তারপর হয় মোহনবাগানের ক্যান্টিন। আজ সেই ক্যান্টিন ভারতসেরা হয়েছে। ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে ক্যান্টিন তৈরি করিয়েছিলাম। পাউরুটি আর চিকেন স্ট্যু খেয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন করেছিলাম। আমার অনুরোধ, আমি মারা যাওয়ার পর যাতে আমার নামে ক্যান্টিনটা নামাঙ্কিত হয়।'
তিনি আরো বলেন ' আমি আজ অঞ্জনকে খুব মিস করছি।'
মোহনবাগান রত্ন সম্মানের পাশাপাশি তাঁকে ক্লাবের তরফে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও চার লক্ষ টাকা দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্লাবকে দেবেন। তাঁর কাছে ক্লাবের সম্মানটাই যথেষ্ট। শেষে বলেন, 'পরের জন্মেও যেন মোহনবাগানের আজীবন সদস্য হয় টুটু বোস।'