টটেনহ্যাম রুখে দিল ম্যান সিটিকে, ফলে সুবিধা পেল আর্সেনাল। লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের জয়ে বার্সেলোনার উপর চাপ আরও বাড়ল।

ম্যান সিটিকে রুখে দিল টটেনহ্যাম
শেষ আপডেট: 2 February 2026 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরোপের দুই শীর্ষ লিগে একই ছবি—চাপ, ভুল, আর শেষ মুহূর্তের নাটক। প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে আবারও লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)। অন্যদিকে লা লিগায় অন্তিম প্রহরের পেনাল্টিতে কোনওমতে ম্যাচ বের করে এনে বার্সেলোনার (Barcelona) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলল রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)। একই দিনে দুই লিগেই শিরোনামে একটাই শব্দ—উৎকণ্ঠা।
দ্বিতীয়ার্ধের ভূত: সিটির পুরনো ক্ষত আবার খুলে গেল
টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে (Tottenham Hotspur Stadium) প্রথমার্ধ দেখে মনে হচ্ছিল, সিটির কাজ প্রায় শেষ। আধিপত্য, বলের দখল, আর সহজে পাওয়া দু’টি গোল—সব মিলিয়ে ম্যাচটা যেন চেনা রুটিন! কিন্তু বিরতির পর ছবি বদলে যায়। নিট ফল: মনোযোগের ঘাটতি, রক্ষণে ঢিলেমি, আর লিড নষ্ট।
এবারের মরশুমে এটা নতুন নয়। লিড নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে না পারা যেন ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল খেয়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ফেলেছে তারা। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র বিরতির পর গোল খেয়েই এই বছরে সাত পয়েন্ট হাতছাড়া করেছেন হাল্যান্ডরা। এই সাত পয়েন্ট থাকলে আজ লিগ টেবিলের ছবিটাই অন্যরকম হত!
টটেনহ্যামের (Tottenham Hotspur) জন্য এই ড্র জরুরি অক্সিজেন। প্রথমার্ধে দিশাহীন, আত্মবিশ্বাসহীন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টাল। ডমিনিক সোলাঙ্কে (Dominic Solanke) ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণে চেনা ঝাঁঝ! চোটে জর্জরিত স্কোয়াড নিয়েও অন্তত লড়াই দেখা গেল। গতরাতের এক পয়েন্ট রেলিগেশন জোনের ভয় আপাতত কিছুটা দূরে সরাল।
আর্সেনালের লাভ: শীর্ষে থাকার লড়াই আরও জমজমাট
সিটির এই পয়েন্ট খোয়ানো মানেই সুবিধা আর্সেনালের (Arsenal)। লিগের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচে সিটির হোঁচট শীর্ষে থাকার দৌড়ে মিকেল আর্তেতার (Mikel Arteta) দলকে এগিয়ে রাখবে। প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) শিরোপা দখলের লড়াই আপাতত তিনমুখী—আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি আর অ্যাস্টন ভিলা (Aston Villa)।
১০০ মিনিটের নাটক: এমবাপের পেনাল্টিতে জিতল রিয়াল
এদিকে স্পেনে রীতিমতো স্নায়ুযুদ্ধ। সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ে (Santiago Bernabeu) রায়ো ভায়েকানোর (Rayo Vallecano) বিরুদ্ধে ম্যাচটা রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব একেবারে আলাদা। জুড বেলিংহ্যামের (Jude Bellingham) চোট, দর্শকদের অসন্তোষ, আর রায়োর লড়াকু ফুটবল—সব মিলিয়ে লড়াই একপেশে নয়, হয়ে উঠল হাড্ডাহাড্ডি। শেষমেশ ১০০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি। তাতেই ২–১ জয়। নয় জনের রায়ো চাপ বাড়ালেও পয়েন্টটা হাতছাড়া। এই জয়ের সুবাদে লিগ টেবিলে বার্সেলোনার (Barcelona) সঙ্গে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্টে নামাল রিয়াল। বার্তা স্পষ্ট: লা লিগার (La Liga) লড়াই এখনও শেষ হয়নি।