.jpeg)
শিখর ধাওয়ান
শেষ আপডেট: 13 February 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘একবার নয়। তিনবার ভাঙা হাত নিয়ে খেলেছি। চোট সারেনি, ব্যথা একই রকম ছিল। তবু মাঠ ছাড়িনি। পেলকিলার খেয়ে, হাতে স্প্রে লাগিয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে বোলারদের মোকাবিলা করেছি।‘—বাইশ গজকে চিরতরে আলবিদা জানানোর পর নিজের ছেড়ে আসা কেরিয়ারের নানান প্রসঙ্গে আলো ছড়ালেন শিখর ধাওয়ান।
দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত রয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনারের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস। সাল ২০১৯। বিশ্বকাপের মঞ্চ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ২৫ রানে ব্যাট করছেন ধাওয়ান। এই সময় ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে ছুটে আসা একটি ডেলিভারি তাঁর হাতে লাগে। এরপরের স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে ধাওয়ান বলেন, ‘আমি জানতাম আমার হাত ভেঙে গিয়েছে। রোহিত শর্মাকে সেটা বলিও। কিন্তু তিনি ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কারণ সেই সময় ডান হাতি-বাম হাতি ব্যাটারদের কম্বিনেশনে রান আসছিল। ওপেনিং পার্টনারের কথা শুনে ক্রিজে থেকে যাই। তারপর আঘাত লাগা জায়গায় স্প্রে ছড়াই, পেনকিলার খাই। তবু তক্ষুনি ধাতস্থ হতে পারিনি। হাত যেন যন্ত্রণায় খুলে আসছিল। তাই বুঝেশুনে খেলছিলাম। খানিক বাদে হাত সেট হয়ে গেলে আরেকটা পেনকিলার নিই, ফের স্প্রে বুলিয়ে দিই। তারপর সেঞ্চুরিতে পৌঁছই।‘ উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের এই ম্যাচে ১০৯ বলে ১১৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন শিখর ধাওয়ান।
যদিও স্রেফ বিশ্বকাপের মঞ্চ নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি ম্যাচে এমনকী শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও চোট পেয়ে একইভাবে ক্রিজে রুখে দাঁড়ান তিনি। কোথা থেকে পান এত শক্তি? এত জেদ? জবাবে মজার সুরে ধাওয়ান বলেন, ‘ছোটবেলায় মার জুটেছিল, বোধ হয় তার জন্যই আমি যন্ত্রণা সামলে এতখানি শক্তপোক্ত হয়ে উঠেছি।‘
ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ের একটি অন্যতম হাতিয়ার ‘স্লেজিং’। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাকযুদ্ধে প্রায়শই নেমে পড়তে দেখা গিয়েছে ধাওয়ানকে। এক্ষেত্রে কড়া টক্কর দিতেন শেন ওয়াটসন ও ব্র্যাড হ্যাডিন। যদিও এরপর বাইরে যখনই দেখা হয়েছে, মাঠের তিক্ততাকে তিনি বা ওয়াটসন—কেউই পুষে রাখেননি। ঝেরে ফেলে মেতে উঠেছেন খোশগল্পে। অকপট স্বীকারোক্তি শিখরের।
অস্ট্রেলিয়া না হয় এগিয়ে। কিন্তু স্লেজিং-যুদ্ধে পিছিয়ে কোন দেশ? কিছুমাত্র না ভেবেই ধাওয়ানের জবাব, ‘নিউজিল্যান্ড। কিউয়ি খেলোয়াড়েরা প্রত্যেকে সুভদ্র। মনে আছে, একবার ট্রেন্ট বোল্ট আমায় বল করার ফাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমায় আউট করব। এর উত্তরে জবাব দিয়েছিলাম, বেশ তো। করে দেখাও। ব্যাস! সেখানেই স্লেজিংয়ের ইতি।‘