
শেষ আপডেট: 9 December 2023 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পরে মধুচন্দ্রিমাও সারতে পারলেন না বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলা পেসার মুকেশ কুমার। তাঁকে চলে যেতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। মুকেশ ভারতের টি ২০ এবং ওয়ান ডে দলে রয়েছেন। দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সেরা অস্ত্র তিনি।
বিহারের গোপালগঞ্জে জন্ম হলেও বাংলা থেকেই ক্রিকেটীয় উত্থান মুকেশের। বাংলার হয়ে দু’বার রঞ্জি ফাইনালে খেলেছেন। তাঁর বোলিং নিয়ে বাংলা ক্রিকেটমহলে শুরু থেকেই অগাধ আস্থা ছিল।
ভারতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পরে আইপিএলে দিল্লি ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে খেলছেন। তাঁকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রিকি পন্টিংয়ের দল পাঁচ কোটি টাকায় কিনেছে। সৌরভ বরাবরই মুকেশের বোলিংয়ের প্রশংসা করে এসেছেন। তিনি যখন সিএবি সভাপতি ছিলেন, সেইসময় মুকেশ সিএবি ঘরোয়া লিগ খেলছেন। মহারাজই উদ্যোগ নিয়ে ভিশন টোয়েন্টি ২০ প্রজেক্টে নিয়ে আসেন মুকেশকে।
সেই শুরু, তারপর শিবিরের সেইসময়ের দুই কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিস ও কোচ টিএ শেখরের তালিমে মুকেশ আরও ধারালো হয়ে ওঠেন। তিনি বাংলার হয়ে রঞ্জিতে আগুনে বোলিংয়ে সোনা ঝরিয়েছেন। ৪০টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে দেড়শর বেশি উইকেট নিয়েছেন।
গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুরন্ত বোলিংই মুকেশকে ভারতীয় ক্রিকেটে আরও বেশি করে পরিচিতি দিয়েছে। যিনি বিহারের বাড়ি থেকে চলে এসে ওঠেন মৌলালি তালতলার একটা ঘুপচি ঘরে। বাবা রাধেশ্যাম ট্যাক্সি চালাতেন। বিহারের বাড়ি থেকে পেটের সন্ধানে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। মুকেশের বাবাও চেয়েছিলেন ছেলেকে ট্যাক্সি চালানো শিখিয়ে রোজগারের পথ করে দেবেন।
জীবনের মোড় যে মুকেশের অন্য দিকে ঘুরবে, সেটি তিনি নিজেও কি জানতেন! কলকাতা লিগে শিবপুর ইনস্টিটিউটের হয়ে প্রথম খেলেন। রানিং জুতো কেনারও পয়সা ছিল না। সেইসময় রণদেব বসু এগিয়ে এসেছিলেন। সৌরভ তাঁদের পারিবারিক ক্লাব বড়িশা স্পোর্টিংয়ে সই করতে বলেন মুকেশকে। মহারাজ চিনেছিলেন রত্নকে, তাই দিল্লি দলেও নিয়েছেন পরের দিকে।
সেই মুকেশ সদ্য বিয়ে করেছেন ছোটবেলার বান্ধবী দিব্যা সিংকে। বিয়ে করেই পাড়ি দিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে। শেষ সিরিজেও ভাল বোলিং করেছেন, এবার আরও বড় পরীক্ষা। এই সফরে ভাল করতে পারলে জুন মাসে টি২০ বিশ্বকাপের দলে স্থান পেয়ে গেলে বিরাট প্রাপ্তি হবে মুকেশের। কারণ শামির বিকল্প হিসেবে অনেকেই ৩০ বছর বয়সি পেসারকে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন।