দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফের অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের তুলোধোনা করলেন সুনীল গাভাসকার। সম্প্রতি আইপিএলে ফিরে এসেছে মাঁকড়ীয় স্টাইলে আউটের প্রসঙ্গ। রবিচন্দ্রন অশ্বিন এর আগে যশ বাটলারকে আউট করে দিয়েছিলেন, তিনি পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে। সেই নিয়ে ভারতের নামী স্পিনারকে সমালোচনার শিকার হতে হয়।
আরও একবার অশ্বিন সেই একইরকমভাবে আউট করার সুযোগ পেয়েছিলেন। অ্যারণ ফিঞ্চ নন স্ট্রাইকার এন্ড থেকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তা দেখেও এবার অশ্বিন সতর্ক করে দেন তাঁকে।
মনে করা হচ্ছে যেহেতু অশ্বিনদের কোচ এই মুহর্তে রিকি পন্টিং, তাই কোনও এক অস্ট্রেলীয়কে ওই ভাবে ফেরালে পন্টিংয়ের বিরাগভাজন হতে পারতেন, তাই ভেবে অশ্বিন সেই একই পথ নেননি। অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং, কেউ যদি ফের এমন করে তা হলে তিনি মাঁকড়ীয় স্টাইলে রানআউট করতে বিন্দুমাত্র সঙ্কোচবোধ করবেন না।
অশ্বিনকে সমর্থন করে এগিয়ে এলেন গাভাসকার। তিনি জানিয়েছেন নিজের এক কলামে, সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘ক্রিকেটীয় চেতনার ব্যাপারটা পুরোপুরি কথার কথা। একটা ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার মতো কাজ করলে তাকে অবশ্যই আউট করতে হবে, এর সঙ্গে চেতনা কিংবা বিবেকের বিষয় খোঁজা একেবারেই ঠিক নয়।’’
সানি আরও বলেছেন, ‘‘অস্ট্রেলীয়রা মাঠে এসবের ধার ধারে না, তা হলে আমাদের এসব মানতে হবে কেন? ওরা কবে এসব শিখবে? আমার মাথায় ঢোকে না যেখানে একটা ব্যাটসম্যান আগে থেকে ক্রিজ ছেড়ে বের হয়ে একটা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাকে আউট করাটা কেন ক্রিকেটীয় চেতনা বহির্ভূত হবে?’’
ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বশ্রেষ্ঠ আইডল জানিয়েছেন, ‘‘যে কোনও নিয়মকে তার মতো করেই দেখা উচিত। এখন ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও তো কত বাঁধাধরা নিয়ম এসেছে। ৩০ গজ বৃত্তের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে যত জন কে থাকতে হয়, তার একজনও ভুল করে বৃত্তের বাইরে চলে গেলে নো-বল ডাকা হয়। তাতে আমার আপত্তি নেই, কারণ ওটাই নিয়ম।’’
তারপরে আরও বলেন, ‘‘সেটাকে যদি আমরা নিয়ম হিসেবে মানতে পারি, একটা ব্যাটসম্যান নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে থেকে আগে আগে বের হয়ে গেলে তাকে আউট করা হলে সেটাকে নিয়ম হিসেবে মানতে পারি না কেন?’’ সানি লিখেছেন, অশ্বিন যখন বোলিং করতে যাচ্ছিল, অ্যারণ ফিঞ্চ প্রায় দেড় গজের মতো এগিয়ে গিয়েছিল। ভেবে দেখুন, সে কতটুকু অবৈধ সুবিধা নিতে চলেছিল!’’
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রাক্তন ক্রিকেটারের ব্যাখ্যা, ‘‘একজন ব্যাটসম্যান যখন বোলারকে ছক্কা মারে, সে কি আগে আগে বলে যে আমি ছক্কা মারব? তেমনি বোলাররাও কী বলে দেয়, আমি এই ডেলিভারিটা গুগলি মারব, ইনসুইংগার দেব? তা হলে এক্ষেত্রে কেন বলে দেওয়া হবে?’’
সানি অতীতে একটি ঘটনা তুলে ধরে জানিয়েছেন, ‘‘আমি যখন এবার ঘটনাটি দেখলাম, আমার মনে হলো, অস্ট্রেলিয়ানরা কবে শিখবে? কারণ এর আগেও ১৯৪৭ সালে বিল ব্রাউনের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছিল। আর এখন ২০২০ সাল। এত বছর চলে গেল, তাও অস্ট্রেলীয়রা এটা শিখল না, জানি না কবে শিখবে!’’