দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই বলছেন এই জুভেন্টাস একেবারেই অচেনা। আবার কারোর মতে, এই ম্যাচে যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো খেললেন, তিনিও চেনা নন একেবারেই।
সিরি ‘এ’ লিগের শুরু থেকেই নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি জুভেন্টাস। এক ম্যাচে জয় পায়, তো পরের ম্যাচেই অফ ফর্ম, এই ভাবেই চলছিল তাদের পয়েন্ট খোয়ানোর যাত্রা। কিন্তু ১৩তম ম্যাচে এসে আর পারল না তুরিনের ক্লাবটি, হার মানল ফিওরেন্টিনার কাছে।
নিজেদের ঘরের মাঠেই ফিওরেন্টিনার কাছে ০-৩ গোলে হেরেছেন রোনাল্ডোরা। ইতালি সিরি এ লিগে এটি তাদের প্রথম পরাজয়। এছাড়া ২০০৮ সালের পরে প্রথমবার জুভেন্টাসকে তাদের মাটিতে হারাল ফিওরেন্টিনা। এই পরাজয়ে তারা খেতাব ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেই নিয়েও সংশয় তৈরি হল।
অথচ পুরো ম্যাচে যে খুব একটা খারাপ খেলেছে জুভেন্টাস, এমন নয়। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের কাছেই রেখেছিল আন্দ্রে পির্লোর ছেলেরা। আক্রমণও করেছে ফিওরেন্টিনার চেয়ে বেশি, অন্তত ১৩ বার তারা হানা দিয়েছে বিপক্ষ বক্সে, কিন্তু আসল কাজ সারতে পারেনি তারা।
বরং ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই গোল হজম করে বসে জুভেন্টাস। ফ্রাঙ্ক রিবেরির এগিয়ে দেওয়া বলটি অসাধারণ দক্ষতায় নিজের দখলে নেন সার্বিয়ান দুসান ভ্লাহোভিচ, ছিটকে দেন দুই ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিট ও লেওনার্দো বোনুচ্চিকে। পরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পরাস্ত করেন গোলরক্ষককে।
শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে যাওয়ার পর ১৮ মিনিটের মাথায় দশজনে হয়ে যায় জুভরা। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়ে মিডফিল্ডার গায়তানো কাস্ত্রোভিলোকে অহেতুক কড়া ট্যাকল করেন জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড হুয়ান কুয়াদ্রারো। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, পরে ভিএআর দেখে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
দশজনের দল নিয়ে প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ের পর দ্বিতীয়ার্ধেও ৩০ মিনিট পর্যন্ত লড়ে গিয়েছে ঘরের দলের ফুটবলাররা। কিন্তু ম্যাচের ৭৬ মিনিটের সময় অ্যালেক্স সান্দ্রোর আত্মঘাতী গোলে লিড বাড়ে ফিওরেন্টিনার। আর সবশেষ ৮১ মিনিটের সময় জুভেন্টাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মার্টিন সেসেরাস।
এই হারের পরিপ্রেক্ষিতে পয়েন্ট টেবিলের ৪ নম্বরে রয়েছে রোনাল্ডোরা। ১৩ ম্যাচে ৬ জয় ও ৬ ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে ৯ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে এসি মিলান।