
শেষ আপডেট: 13 September 2020 12:21
সর্বক্ষেত্রেই বলা হয়, কিংবদন্তিদের শুরুটা তেমন জমে না। এসেই সাড়া ফেলে দেওয়া এরকম নামী খুব কম রয়েছে, বরং ঘটে বিপরীতটাই। ওয়ার্নের ক্ষেত্রেও অভিষেক সফর তেমন ভাল হয়নি। কেউ তাঁকে পাত্তাই দিতে চায়নি। ছোটবেলা হতেই খেলাধূলায় পারদর্শী ছেলেটি। খেলায় স্কলারশিপ পেয়ে হাই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল, এরপর অনূর্দ্ধ ১৬ দলের হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে স্পিন বোলিং করতে শুরু করেছিল।
এরপর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তেমন সাড়া ফেলতে পারেননি। খেলাটা ঘুরে যায় শ্রীলঙ্কা সিরিজে। অস্ট্রেলিয়ার ১৮১ রান করতে পারলে জিতবে এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা শেষ হয়ে যায় তার থেকে ২২ রান দূরে। নেপথ্য নায়ক সেই ওয়ার্ন, তিনি ১১ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিলেন। যা দেখে শ্রীলঙ্কার সেইসময়ের অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গা বলেছিলেন, ‘‘যে স্পিনারের বোলিং গড় ৩০০-র ওপরে, সেই আমাদের হারিয়ে দিয়ে গেল!’’ পরের বছরই নিজের সেরাটা দিলেন। ১৯৯৩ সালে ১৬ ম্যাচে ৭২ উইকেট শিকার তাঁর জীবনটাই বদলে দিল।
এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে পর্যন্ত অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন। সেবার দলের অধিনায়ক মার্ক টেলর জানিয়েছিলেন, ‘‘আমাদের পুরো দলটি খেলছে বলেই আমরা জিতছি, কারোর একার জন্য নয়।’’ এই কথা যে ওয়ার্নের জন্য বলা, সবাই বুঝতে পেরেছিলেন। টেলর ও ওয়ার্নের মধ্যে বৈরিতা নিয়ে অনেক ঘটনা রয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায় ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ার্নও উইকেট পাননি, আর অস্ট্রেলিয়াও কাপ জেতেনি।
যদিও পরে বিশ্বকাপ জিতেছেন। নিজের খেলা ২টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতার ছাড়াও ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন।।হয়ে উঠেছেন দুর্ভেদ্য। একার হাতে টেস্ট জিতিয়েছেন। আবার জড়িয়ে গিয়েছেন মহিলা সঙ্গ ও ড্রাগ সেবনের দায়ে। ২০০৩ বিশ্বকাপ খেলতে পারলেন না ড্রাগ সেবনের কারণেই।
মাঝে হাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। ফিরে এসে রণমূর্তি ধারণ করলেন।। ২০০৪ সালে ১২ টেস্টে শিকার করেছেন ৭০ উইকেট এবং ২০০৫ সালে ১৫ টেস্টে ৯৬ উইকেট শিকার করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এক ক্রিকেটবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ডটি এখনও তাঁর দখলে।
নিজের শেষ অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ করতে বড় অবদান রাখলেন। এই সিরিজেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের অ্যান্ড্রু স্ট্রাসকে আউট করে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট নিলেন। আবার ওই অ্যাশেজেই সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে মন্টি পানেসারকে আউট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাজার উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
ওয়ার্ন খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরে ধারাভাষ্যের কাজে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু তিনি মানেই বিতর্ক, সে খেলা ও খেলার বাইরে। বদমেজাজী এই ক্রিকেটার রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল খেতাবও পেয়েছেন। তিনি এবারও আইপিএলে থাকবেন, তবে সেটি প্যানেল ধারাভাষ্যকার হিসেবে।