দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ তিনি নিজে কাশ্মীরি পণ্ডিত। উপত্যকা ছেড়ে তাঁদের পরিবারকে চলে আসতে হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু মাটির টান এখনও ভোলেননি তিনি। তাই ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরেই সেখানকার ক্রিকেটের উন্নতির জন্য উঠে পড়ে লাগলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না। জম্মু কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি।
শুক্রবার জম্মু কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন রায়না। কী ভাবে উপত্যকায় ক্রিকেটের আরও প্রসার ঘটানো যায়, তার জন্য বেশ কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। কী ভাবে জম্মু-কাশ্মীরের তরুণদের ক্রিকেটের দিকে টেনে আনা যায় সেই বিষয়েও তাঁদের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বেশ কিছুদিন আগেই রায়না জানিয়েছিলেন, জম্মু কাশ্মীরের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কিছু করবেন। সেই কথা রেখেছেন তিনি। উপত্যকার তরুণদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রিকেট অন্যতম গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম বলেই জানিয়েছেন দিলবাগ সিং। তাঁর মতে পাকিস্তান বারবার চেষ্টা করছে, জম্মু-কাশ্মীরের তরুণদের নাশকতার কাজে যুক্ত করতে। তাঁদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কী ভাবে তরুণদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে সেই বিষয়ে রায়না বেশ কিছুদিন আগে চিঠি লিখেছিলেন দিলবাগ সিংকে। দেখা করার কথা জানিয়েছিলেন। সেইমতোই শুক্রবার দেখা হল তাঁদের।
এই সাক্ষাতের পরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফে টুইট করে জানানো হয়, “বিখ্যাত ক্রিকেটার সুরেশ রায়নার সঙ্গে জম্মু কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিং শ্রীনগরের পুলিশ হেডকোয়ার্টারে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়ে কথা হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের কী ভাবে খেলার মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু ক্রিকেট দলের সঙ্গে রায়না দেখা করবেন বলেও জানিয়েছেন।” বৈঠকে তাঁরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অনন্তনাগের এসএসপি সন্দীপ চৌধুরী, মনোজ কুমার পণ্ডিতের মতো পুলিশ আধিকারিকরা।
https://twitter.com/JmuKmrPolice/status/1306895566392053760?s=19
সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে রায়না ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে রঞ্জি খেলার। বর্তমানে তিনি উত্তর প্রদেশের হয়ে খেলেন। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর উপত্যকার ক্রিকেটের উন্নতির জন্য সেখানকার হয়ে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। জম্মু কাশ্মীরের রঞ্জি দলের অধিনায়ক পারভেজ রসুল ছাড়া ভারতের ক্রিকেট সার্কিটে সেখানকার আর কোনও ক্রিকেটারের তেমন পরিচিতি নেই। কিন্তু রায়না নিজে উদ্যোগ নিলে আরও অনেক ক্রিকেটার উঠে আসবে বলেই ধারণা। তাহলে আখেরে লাভ হবে উপত্যকার তরুণদেরই। সেই নিয়েই তাঁর আলোচনা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে।