দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন ফুটবল স্বপ্নে হয়। এমন স্কোর হয় বাস্কেটবল ম্যাচে। ধারাভাষ্যকাররা ম্যাচ চলাকালীন একটি চমকপ্রদ তথ্য দিলেন, তাঁরা জানালেন, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স ও যুগোস্লাভিয়া ম্যাচে শেষ এরকম স্কোর হয়েছিল ম্যাচের। শেষমেশ যুগোস্লাভিয়া ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে।
সোমবার কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়ামে আবারও এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এই ম্যাচে বিশ্বকাপে রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে স্পেন বোঝাল তারাও কম যায় না। স্প্যানিশ আর্মাডায় শেষমেশ ক্রোটরা চূর্ণ ৫-৩ গোলে। এটি ইউরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের ম্যাচ হিসেবে আর্কাইভে চলে গেল। স্পেন চলে গেল শেষ আটে, তাদের সামনে এবার সুইজারল্যান্ড।
আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের ধারাপাত শুরু। স্পেন ডিফেন্ডারের ভুলে গোল পেয়ে যায় ক্রোটরা। খেলার সেইসময় বয়স ২০ মিনিট। স্পেন ম্যাচে সমতা ফেরায় ৩৮ মিনিটে। তারপর ৫৭ ও ৭৬ মিনিটে স্পেন আবারও গোল দিয়ে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায়। ক্রোয়েশিয়া ৮৫ মিনিটে ওরসিচ গোল করে ব্যবধান কমান।
https://twitter.com/FCBarcelona/status/1409585212510531584
ক্রোটদের হয়ে খেলার রং বদল করেন সেইসময় পেলিসিচ। তিনি পরপর দুটি গোল করে ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ করে দেন। সবাই ভেবেছিল খেলার অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও দারুণ লড়াই করবে লুকা মদরিচরা। কিন্তু তখন স্পেন খেলা ধরে নিয়েছে। তারা অতিরিক্ত সময়ে আরও দুটি গোল করে ম্যাচের রাশ নিয়ে নেন। ওই সময় গোল দেন মোরাতা ও ওয়ারাজারাই।
গ্রুপপর্বে সুইডেন ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর স্পেনের পারফরম্যান্স এবং এনরিকের কোচিং নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও শেষ ম্যাচে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে সেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে লা রোজারা। মোরাতা, লাপোর্তা, টরেসরা পারফরম্যান্সের সেই ধারাবাহিকতা দারুণভাবে বজায় রাখলেন।
https://twitter.com/ESPNFC/status/1409584389172830233
অপরদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার, চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপপর্বে ধুঁকছিল ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানারআপরা শেষ ম্যাচে লুকা মদরিচের ম্যাজিকে ভর করে ৩-১ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে নাম লেখায়। তারা আত্মবিশ্বাসী ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু স্পেন এত ভাল খেলেছে, তারা শেষমেশ আর ভাল খেলার রেশ বজায় রাখতে পারেনি।
ম্যাচে দুই কোচের রণকৌশলের পরীক্ষাও হয়েছিল। দলের সেরা অস্ত্রদের কী করে ম্যাচে ব্যবহার করবেন কোচরা, তার পরীক্ষায় পাস স্পেনের কোচ লুই এনরিকে। তিনি দেখালেন বড় মঞ্চের কোচ তিনি, আসল ম্যাচে জ্বলে উঠলেন। স্প্যানিশ ফুটবলে ফিরে এসেছিল তিকিতাকাও। অসংখ্য পাস নিজেদের মধ্যে খেলে বিপক্ষ বক্সে হানা দিয়েছেন ফুটবলাররা।