
শেষ আপডেট: 27 November 2020 08:55
আসলে বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে আগাম অনুমান চলে না একথা সবাই জানে। একথা জানেন বড় ম্যাচের কোচেরাও। সবুজ-মেরুন কোচ অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাস দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় আছেন। তিনি তো জানেনই। কিন্তু লাল-হলুদের নতুন কোচ লিভারপুলের কিংবদন্তি রবি ফাউলারের এসব জানাবোঝার মধ্যে ছিল না। অবশ্য তিনিও গত পৌনে দু’মাসে গোটা বিষয়টি বুঝে নিয়েছেন। সমর্থকদের আবেগ, ডার্বির পুরনো ইতিহাস, এ সবই জেনে নিয়েছেন নিজের তাগিদে। দু’জনেই বড় মাপের কোচ। তাই ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে কেউ কাউকে চ্যালেঞ্জ করলেন না। বরং একে অন্যের প্রতি সমীহ দেখালেন।
এই ডার্বিতে খানিকটা হলেও সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। কারণ আগের মরসুমের দল প্রায় পুরোটাই ধরে রেখেছেন হাবাস। নিজের সুবিধা মতো সন্দেশ ঝিঙ্গানের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার এনেছেন। প্রথম ম্যাচে কেরালা ব্লাস্টার্সকে হারিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে রয়েছে হাবাসের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক, যাকে হাতিয়ার করে আগেও অনেক কঠিন ম্যাচ বের করেছেন তিনি।
অন্যদিকে সম্পূর্ণ নতুন দল এসসি ইস্টবেঙ্গল। জেজে-বলবন্তদের মতো কিছু ফুটবলার বাদে বাকিরা নতুন। বিদেশিদেরও এবার প্রথম ভারতে খেলতে আসা। কোচ ফাউলারের অভিজ্ঞতাও হাবাসের থেকে কম। তবে এর একটা সুবিধাও রয়েছে। এই দলের ফুটবলারদের সম্বন্ধে বাকিদের খুব একটা পড়াশোনা নেই। ফাউলারের স্ট্র্যাটেজিও প্রতিপক্ষ কোচের অজানা। তাই একেবারে নতুন ছকে হাবাসকে পর্যদুস্ত করতে পারেন তিনি।
প্রথম ম্যাচেই অবশ্য চোট পেয়েছেন এটিকে মোহনবাগানের অন্যতম ফুটবলার মাইকেল সুসাইরাজ। তাই তাঁকে পাবেন না হাবাস। নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে তাঁকে। অবশ্য তাতে নতুন চমকও দিতে পারেন তিনি।
মাঠে দর্শক না থাকায় বড় ম্যাচের চাপটা অনেকটাই কম থাকবে ফুটবলারদের মধ্যে। কিন্তু খেলার মাঠে প্রতিপক্ষকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবে দু’দলই। দুই কোচই চাইবেন একে অন্যকে টেক্কা দিয়ে যেতে। এই চাপ যে দল যত ভালভাবে সামলাতে পারবে আইএসএলের প্রথম ডার্বি যাবে তাদের দিকেই।