অশোক মালহোত্রা
আমি এই কেকেআর দলটিকেই দেখতে চাইছিলাম। কী সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলটির মধ্যে। এককথায় দুর্দান্ত। তবে আমার মনটা খচখচ করছে এত সুন্দর দলে শুধু মিসফিট করছে ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক।
আইপিএলের মতো কর্পোরেট লিগে, যেখানে ফর্ম দেখানোই শেষ কথা, সেখানে কার্তিক শুধু ক্যাপ্টেন্সি করে দলে কতদিন টিকে থাকবে বলা মুশকিল। আমি বলতে চাইছি কেকেআর দলে ওপেন স্লট একটু নড়বড়ে। নারিনের খেলা সবাই ধরে ফেলেছে। পুল শটে নারিন দক্ষ, সেটি জেনেই ওকে ফুল শর্ট অব লেংথে বোলিং করে ফায়দা নিচ্ছে বোলাররা।
শুভমান গিল প্রতিদিন খেলে দেবে, এটা ভাবাও অন্যায়। জানি, এবারের আইপিএলের আবিষ্কার হতে চলেছে গিল। দারুণ শারীরিক কাঠামো, আর সব ক্রিকেটীয় শট নেয়। সেই জন্য শুরু থেকেই গিল চালাবে, এটা হবে না। বরং কার্তিক এসে চালাক, কারণ ওর অভিজ্ঞতা বেশি। মুহর্তের মধ্যে সারা মাঠের ফিল্ড প্লেসিং দেখে নিতে পারবে।
কার্তিক ওপেন করলে দলের ব্যাটিং অর্ডার একেবারে চাবুক হয়ে যাবে। শুরুতে কার্তিক ও গিল, তিনে রানা, চারে রাসেল, পাঁচে আসুক মরগ্যান। কেননা মরগ্যান এসে পরে আর তেমন সতীর্থদের থেকে সুবিধে পাচ্ছে না। অস্বীকার করলে হবে না ওর মতো ব্যাট এ মুহূর্তে সেরাদের মধ্যে অন্যতম।
আরও একটি বিষয় বলব, সেটি হল দলের বোলিং বিভাগ খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে একটু কমজোরি মনে হলেও পরের দুটি ম্যাচে দারুণ ছন্দে রয়েছে শিবম মাভি, কমলেশ নাগরকোটি, বরুণ চক্রবর্তীরা। বরুণের স্পিন দেখে অবাক হচ্ছে। ফ্লাইট দিয়ে ব্যাটসম্যানকে লোভ দেখাচ্ছে, তাতেই উইকেট নিয়ে চলে যাচ্ছে। বরুণ এই কারণেই রহস্যজনক বোলার হিসেবে পরিচিত।
এরকমভাবে খেললে আমি নাইট রাইডার্সকে প্লে অফে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। দলের মধ্যে সমঝোতা দারুণভাবে গড়ে উঠেছে। গত ম্যাচে গ্যালারিতে ছিলেন দলের কর্ণধার শাহরুখ খান। কিং খানের সামনে ছেলেরা বুঝিয়েছে তারা এবার খেতাবের জন্যই দৌড়বে। আমার তো মনে হয়, কেকেআর স্লোগান, করব, লড়ব, জিতবে রে... এবার তার সার্থক রূপায়ণ আমরা মাঠেই দেখব। যদি না অঘটন মাথা তুলে দাঁড়ায়।