দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্ভাবনা যা ছিল, ঠিক সেটাই ঘটল। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন এবারও হল না। বার্ষিক সাধারণ সভায় যে কমিটি ছিল, সেই কমিটিই রয়ে গেল। আবারও চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট থেকে গেলেন রাজনৈতিক নেতা প্রফূল প্যাটেল। বাংলা থেকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নিবাচিত হলেন সুব্রত দত্ত। এই নিয়ে টানা ১৩ বছর তিনি একই পদে। সচিব পদে থাকলেন দিল্লির প্রবাসী বাঙালি কুশল দাসই।
ভারতীয় ক্রিকেটে বোর্ডে যেমন প্রেসিডেন্ট ও সচিব পদে যথাক্রমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও জয় শাহের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁরা কাজ করে চলেছেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি কোনও হস্তক্ষেপ না করায়। কিংবা আদালত থেকে কোনও নির্দেশাবলী না আসায়। তেমনি এআইএফএফ-তেও একইভাবে নিজেদের মধ্যে সভা করে কর্তারা একই পদে টিকে গেলেন। বিসিসিআই-র লোধা আইনে বলা আছে, টানা নয়বছর পদে থাকলে সেই কর্তাকে তিনবছরের কুলিং অফ পিরিয়ডে থাকতে হবে। সৌরভদের ক্ষেত্রে সেই নিয়মই খাটছে।
ফুটবল ফেডারেশনে সেই নিয়ম নেই। যে কারণে টানা থাকছেন বর্তমান কমিটির আধিকারিকরা। এই নিয়েই প্রতিবাদ করেছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফা। তারা এই বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। ভারতের ফুটবল ফেডারেশনের কাজকর্মে তারা ক্ষুব্ধ। তাদের মূলত বক্তব্য, একই ব্যক্তি টানা থেকে যাচ্ছেন, অন্য যোগ্য ব্যক্তি আসার সুযোগই পাচ্ছেন না।
২০১৬ সালে ফেডারেশনের শেষ নির্বাচনের সময় থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। প্রফূল প্যাটেল তখন নির্বাচিত হয়ে ফের ফেডারেশনের সভাপতির আসনে বসেছেন। ২০০৮ সালে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই ফেডারেশনের সভাপতি তিনি। ২০১২ এবং ২০১৬ সালে ভোটে জিতে আসেন তিনি। সেই সময়েই স্পোর্টস কোড না মেনে নির্বাচনের বিধিভঙ্গ হয়েছে দাবি করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা ঠুকে দেন রাহুল মেহেরা।
প্রফূল প্যাটেলও নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নির্বাচন নিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। পাশাপাশি সেইসময় বলে দেওয়া হয়, নির্বাচন হলে প্রফূল প্যাটেল আর দাঁড়াতে পারবেন না। কারণ তিনটি টার্ম হয়ে গিয়েছে।
সব থেকে বড় কথা, বার্ষিক সভায় ফেডারেশনের কর্তারা নিজেরা থাকলেও দিল্লির সভার বাইরে ছিলেন ফিফা পর্যবেক্ষক, এএফসি-র কর্তারা, তাঁদের সামনেও নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রসঙ্গ তোলেননি ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিরা। ঠিক হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট যতদিন না কোনও সুস্পষ্ঠ নির্দেশ না দিচ্ছে, ততদিন এই কমিটিই দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। যদিও এও বলা হয়েছে, সংস্থার আর্থিক বিষয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।