দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহামান্য আদালতকে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের প্রাক্তন সচিব ওয়াসিম আক্রাম জানিয়েছিলেন, তাঁদের যেন ফের ক্লাবের পদে বহাল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের গোষ্ঠী আদালতে দাখিল করেছিলেন নানা বেআইনি কাগজপত্র। তাঁরা দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, যাতে করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আদালত তাঁদেরই ক্ষমতা দেয়। কিন্তু বুধবার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সেই দাবি মানা সম্ভব নয়। ক্ষমতা পেতে গেলে নির্বাচনে জিতে আসতে হবে।
শাসকগোষ্ঠীর কর্তারা সবসময় চাইছেন যাতে ক্লাবে আবারও সুশাসন ফিরে আসে, নির্বাচন যেন হয়। সেই মতো তাঁরা জানিয়ে এসেছেন, ৩ জুলাই নির্বাচন হতে পারে। সেই দিন আদালত না জানালেও মনে করা হচ্ছে, সামনের মাসেই মহামেডানে নির্বাচন হবে প্রায় তিন দশক বাদে।
বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা ওয়াসিম আক্রমের সব দাবি উড়িয়ে দিয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতের প্রধান বিচারক সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেছেন নির্বাচন করতেই হবে। ওয়াসিম আদালতের কাছে শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা কামারউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ব্যাঙ্কের কাগজ জমা দেন। তাতে তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, অবৈধভাবে ক্লাবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলা হয়েছে।
শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এনেছিলেন বহিষ্কৃত সচিব ওয়াসিম। আসন্ন নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করার পাশাপাশি ক্লাব পরিচালনার ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগ করার আবেদনও করেছিল বিরোধী গোষ্ঠী। সেই আবেদনেও কর্ণপাত করেনি আদালত।
এ দিকে ২৩ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সে দিন শাসক গোষ্ঠীকে ক্লাবের সদস্যদের তালিকা ও আয়-ব্যয়ের বাৎসরিক হিসেবে দিতে বলেছে আদালত। সেই নিয়ে কীরকম পরিকল্পনা হতে পারে, সেই নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কর্তারা। তাঁরা বৃহস্পতিবার আবার পার্কসার্কাসের একটি হোটেলে দুপুরে প্রেস কনফারেন্সে নিজেদের ভাবনার কথা জানাবেন। এই কথা জানিয়েছেন বর্তমান ক্লাব সচিব দানিশ ইকবাল।
এই বিষয়ে শাসক গোষ্ঠীর আইনজীবী রবিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আদালতের রায় কিন্তু শাসক গোষ্ঠীর পক্ষেই গিয়েছে। কারণ মহামান্য আদালত নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা ও ক্লাব পরিচালনার ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগ করার পক্ষে রায় দেয়নি।” একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “দেশের সংবিধান মেনে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।”