দ্য ওয়াল ব্যুরো: একে অপরের মধ্যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের মধ্যে, সেটি যে বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে কে জানত! একবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বলেছিলেন, ‘‘লিওর (লিওনেল মেসি) সঙ্গে আমার শত্রুতা গত ১৫ বছর ধরে। আবার আমরা ভাল বন্ধুও, তবে আমরা কোনওদিন এক সঙ্গে ডিনার সারিনি।’’
আগামী দিনেও সেই ডিনার সম্ভব কিনা, প্রশ্ন তুলে দিল এবারের ফিফা বর্ষসেরার জন্য ভোট পর্ব। কারণ এবার লিওনেল মেসি ভোটই দিলেন না রোনাল্ডোকে। এজন্য অবশ্য অনেকেই মধুর প্রতিশোধের কথাও বলছেন। কারণ গতবার যেমন রোনাল্ডো সেরার বাছাইয়ে ভোট দেননি তাঁর ‘বন্ধু’ মেসিকে।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দফতরে বৃহস্পতিবার রাতে ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ড’ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। যাতে বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট’ অ্যাওয়ার্ডটি জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেবানডস্কি। তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৫২ ভোটিং পয়েন্ট। নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডো ৩৮ ভোটিং পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় ও ৩৫ ভোটিং পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন মেসি।
ফুটবল সমর্থক, সাংবাদিক, জাতীয় দলের কোচ এবং অধিনায়করা ভোট দিয়েছেন তাঁদের পছন্দের ফুটবলারদের। মেসি আর্জেন্টিনা এবং রোনাল্ডো পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ভোট দিয়েছেন।
এবার প্রকাশ্যে এল, কে কাকে ভোট দিয়েছেন ওই সেরার লড়াইয়ে। ফিফা যে তালিকা দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, রোনাল্ডো এবার তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসিকে ঠিকই ভোট দিয়েছেন। কিন্তু মেসি দেননি পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
মেসি তাঁর ভোটে ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রাক্তন বার্সা সতীর্থ এবং পিএসজির ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে। নেইমারেরই ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপেকে দ্বিতীয় হিসেবে বাছাই করেছেন মেসি। তিনে তিনি রেখেছেন বর্ষসেরার পুরস্কার জেতা লেবানডস্কিকে।
এদিকে রোনাল্ডো তাঁর প্রথম পছন্দ হিসেবেই রাখেন লেবানডস্কিকে। দুইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি এবং তিনে পিএসজির এমবাপেকে বেছে নেন পর্তুগিজ যুবরাজ। অর্থাৎ মেসি-রোনাল্ডো দুজনেরই সেরা তিনে জায়গা পেয়েছেন লেবানডস্কি ও এমবাপে।
এদিকে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ দলের কোচ নির্বাচিত হলেন লিভারপুলের জুরগেন ক্লপ। 'দ্য বেস্ট' অ্যাওয়ার্ডের দৌড়ে বায়ার্ন মিউনিখের হান্স ফ্লিক ও লিডস ইউনাইটেডের মার্সেলো বিয়েলসাকে হারিয়েছেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ড’ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
লিভারপুলকে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবার শিরোপা জেতানো ক্লপ ফুটবল সমর্থক, সাংবাদিক, জাতীয় দলের কোচ এবং অধিনায়কদের সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এই সময়ে লিভারপুলকে তিনটি শিরোপা জিতিয়েছেন ক্লপ। ক্লাবের রেকর্ড ৯৯ পয়েন্ট নিয়ে ৩০ বছরের মধ্যে লিভারপুলকে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম শিরোপা জেতানোর সঙ্গে ক্লপ এনে দিয়েছেন উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েদের ফুটবলে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন সারিনা ভিগম্যান। এবার বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের সবকটি জিতে নেদারল্যান্ডসকে ২০২২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়ে যাওয়ার কারিগর এই কোচ।
ছেলেদের ফুটবলে বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন বায়ার্ন ও জার্মানি জাতীয় দলের ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। আর মেয়েদের বর্ষসেরা গোলরক্ষক হয়েছেন লিওঁ ও ফ্রান্স জাতীয় দলের সারাহ বুয়াদি।