দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন পাকিস্তানের পেস বোলার মহম্মদ আমির। ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে আগেই অবসর নিয়েছিলেন ২৮ বছরের আমির। কিন্তু তারপরেও গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পাননি আমির। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ঘরের সিরিজেও সুযোগ পাননি আমির। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আমির জানিয়েছেন, “আমি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চাই না। আমি সবসময় সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে।”
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পিসিবি-র তরফে একটি প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চিফ এগজিকিউটিভ ওয়াসিম খান আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমির জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার আর কোনও ইচ্ছে বা মানসিকতা নেই তাঁর। তাই আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিতে তাঁকে আর দলে নেওয়া হবে না। এটা আমিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাকে পিসিবি সম্মান জানাচ্ছে।”
গত বছর জুলাই মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সময় হেড কোচ মিসবাহ উল হক ও বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মহম্মদ আমির। ইউনিস অভিযোগ করেছিলেন, বেশি টাকার জন্য দেশের হয়ে না খেলে লিগ ক্রিকেট খেলেছেন আমির। তার জবাবে এই বাঁ’হাতি পেস বোলার বলেন, “আমি আমার শরীরের হাল বাকিদের থেকে বেশি ভালভাবে জানি। তাই নিজের শরীরের খেয়াল রাখার জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মহম্মদ আমিরের। দুরন্ত শুরু করলেও সেই বছরই ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ খেলার সময় স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন আমির। তারপরেই তাঁকে ৫ বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়। ২০১৬ সালে ফের নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে আসেন আমির। ২০১৭ সালে পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের হয়ে ১৭টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ৩৬ টেস্টে ১১৯ উইকেট, ৬১ একদিনের ম্যাচে ৮১ উইকেট ও ৫০ টি ২০ ম্যাচে ৫৯ উইকেট নিয়েছেন আমির। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।