দ্য ওয়াল ব্যুরো : এমন আইপিএল বিরাট কোহলির কোনওদিন যাইনি। হয়তো সোমবার দুবাইয়ে রোহিতদের বিপক্ষে জয়ের মুহূর্তে তাঁরও অবদান রয়েছে আংশিক, তবুও কোথাও যেন সেই বিরাট কোহলিচিত ব্যাপার নেই এবারের আসরে।
যদিও আইপিএল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। দুইয়ে থাকা সুরেশ রায়না কিংবা তিন নম্বরে থাকা রোহিত শর্মার থেকে অনেক কম ম্যাচ খেলেই বেশি রান করেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের অধিনায়ক।
শুধুই আইপিএল নয়, টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটেই ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। এই তালিকায়ও দুই নম্বরে থাকা রোহিত শর্মার চেয়ে অনেক কম ম্যাচ খেলে প্রায় ২০০ রানে এগিয়ে রয়েছেন কোহলি। আইপিএলে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৫৪৩০ রান। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মিলিয়ে করেছেন ৮৯১৮ রান।
এর আগে ১২টি আইপিএল হয়ে গিয়েছে, কিন্তু কোনওবারই কোহলির এমন ফর্ম দেখা যায়নি। এবার কেন দেখা যাচ্ছে, উঠছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লকডাউনের সময় ক্রিকেটের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না স্বাভাবিকভাবেই, এমনকি ক্রিকেটের বিষয়ে ফোকাসও ছিল না তাঁর।
আবার অনেক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোহলি এমন এক ধরনের ক্রিকেটার, যে কিনা ঠিক সময়ে জ্বলে উঠে পুরো ফোকাস তাঁর দিকে নিয়ে নিতে পারেন। ‘ল অব অ্যাভারেজ’ যদি মানা হয়, তা হলে আইপিএলের সঠিক সময়ই জ্বলে উঠবেন তিনি।
টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আইপিএলে যাত্রা শুরু হয়েছে কোহলির দলের। সেই ম্যাচে ১৩ বলে ১৪ রান করেছিলেন অধিনায়ক। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫ বল খেলে মাত্র ১ রান করতে পেরেছিলেন তিনি। সোমবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে তাঁর অবদান ১১ বল খেলে মাত্র ৩ রান। শুধু এই তিন ম্যাচ নয়, টি-টোয়েন্টিতে শেষ ৮ ইনিংসে একবারও ২৫ রান করতে পারেননি কোহলি।
এবারের আইপিএলের প্রথম তিন ম্যাচে কোহলির মোট সংগ্রহ ২৬ বল খেলে ১৮ রান। এর আগে ২০১০ সালের আসরে প্রথম তিন ম্যাচে সবচেয়ে কম ৩৫ রান করেছিলেন কোহলি। ২০০৮ সালে মাত্র ১৯ বছরের তরুণ কোহলি প্রথম তিন ম্যাচে করেছিলেন ৩৭ রান।
আইপিএলের কোনও আসরের প্রথম তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১৮৭ রান করেছেন ২০১৬ সালে। সেবার সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে মোট ৯৭৩ রান করেছিলেন কোহলি। যা এখনও অক্ষত।
আইপিএলে প্রথম তিন ম্যাচে বিরাটের সংগ্রহ :
২০০৮- ৩৭ রান; ২০০৯- ৬৪ রান; ২০১০- ৩৫ রান; ২০১১- ১০৬ রান; ২০১২- ৭১ রান; ২০১৩- ১৬৩ রান; ২০১৪- ৮০ রান; ২০১৫- ৭২ রান; ২০১৬- ১৮৭ রান; ২০১৭- ১৫৪ রান; ২০১৮- ১০৯ রান; ২০১৯- ৫৫ রান; ২০২০- ১৮ রান।