দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের মাঠে নিষ্প্রভ রইলেন মেসি। অন্যদিকে বহুদিন পরে স্পেনের মাঠে খেলতে এসে জ্বলে উঠলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। জোড়া গোল করলেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলায় জুভেন্টাস ৩-০ গোলে হারাল বার্সিলোনাকে। ঘরের মাঠে লজ্জার হার হল কাতালান ক্লাবের।
এদিন খেলার শুরু থেকেই আধিপত্য দেখানো শুরু করে অ্যাওয়ে দল। তার ফলও মেলে। ১১ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে রোলাল্ডোকে ফাউল করেন বার্সা ডিফেন্ডার আরাউজো। পেনাল্টি পায় জুভে। স্পট থেকে প্রথম গোল করতে কষ্ট হয়নি সিআর সেভেনের।
প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগের ফের ধাক্কা খায় রোনাল্ড কোম্যানের দল। ২০ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে থেকে কুয়াদ্রাদোর ক্রসে জোরালো ভলি মেরে জাল নাড়িয়ে দেন ম্যাককিনি। ব্যবধান ২-০ হয়ে যায়। তার ২ মিনিট পরেই অবশ্য মেসির শট দুরন্ত বাঁচান ইতালির দলের গোলকিপার বুফোঁ। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল আসেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বার্সার রক্ষা কর্তা হয়ে ওঠেন গোলকিপার টের স্টেগেন। র্যামসের শট ভাল বাঁচান তিনি। যদিও তার এক মিনিট পরেই বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন লেঙ্গলেট। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে সেখানেই বার্সার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন রোনাল্ডো।
তবে তারপরেও অনেক নাটক বাকি ছিল। ৫৮ মিনিটের মাথায় ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল বার্সার। মেসির ক্রস থেকে গ্রিজম্যানের হেড ক্রসবারের লেগে বেরিয়ে যায়। ৭৩ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে গ্রিজম্যানকে ফেলে দেন ডি লিট। পেনাল্টি পায় বার্সা। কিন্তু ভিএআর-এ দেখা যায় ওই ফাউলের আগে গ্রিজম্যান অফসাইড ছিলেন। তাই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বদল করেন রেফারি।
পরের মুহূর্তেই ফের নাটক। ইতালির দলের ডিফেন্ডার বোনুচ্চির হেড গোলে ঢোকে। কিন্তু ফের ভিএআর-এ দেখা যায় ডিফেন্ডার অফসাইড ছিলেন। তাই গোল বাতিল হয়। নইলে আরও লজ্জার হার হত কাতালান ক্লাবের। বাকি সময়ে অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেননি মেসিরা। ০-৩ ফলেই হারতে হয় তাঁদের।
চলতি মরসুমের শুরু থেকেই সময়টা ভাল যাচ্ছে না বার্সার। লা লিগায় একের পর এক ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াতে হচ্ছে। অনেক দুর্বল দলের কাছে হারতে হচ্ছে। গোলের মুখ খুলতে যেন ভুলেই গিয়েছে বার্সা। সুয়ারেজ না থাকায় ভাল বক্স স্ট্রাইকারের অভাব বোঝা যাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যা মেটাতে হবে ক্লাবকে। নইলে ফের এক মরসুম ট্রফিহীন হয়েই কাটাতে হবে তাদের।